কালবেলা · আন্তর্জাতিক
শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প
২০/১০/২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে চান তিনি। তিন নেতার মধ্যে আলাদা করে বৈঠক হলেও একসঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা কখনো হয়নি।
সোমবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং রাজি থাকলে তিনি এ বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়াও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।
আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই সম্মেলনের ফাঁকে তিন নেতার বৈঠকের বিষয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে বৈঠকটি কতটা এগিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন এ বৈঠককে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার কাজে ব্যবহার করতে চান। তার লক্ষ্য এমন একটি সমাধান, যা রাশিয়ার স্বার্থের অনুকূলে যাবে। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপে এ নিয়ে আলোচনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি নিয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মস্কোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন। একই সময়ে চীনের সঙ্গেও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার আশঙ্কা, এতে পুতিন আরও উৎসাহিত হবেন এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের বিষয়ে রাশিয়ার আচরণ তার কাছে আপাতত গ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের পক্ষে আলোচনার জন্য অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র কমানোর চুক্তি সম্ভব। তবে তা এ বছরই হতে হবে, এমন নয়। বর্তমানে তিন দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা কতদূর এগিয়েছে, তা জানা যায়নি।
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত করার যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ এ বছরের শুরুতে শেষ হয়েছে। নতুন করে চুক্তির সীমা বাড়াতে হলে দুই দেশের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
চীন অবশ্য বলেছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমপর্যায়ের নয়। তাই এই পর্যায়ে তিন দেশের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় চীনকে যুক্ত করার প্রস্তাবকে তারা ন্যায্য বা বাস্তবসম্মত মনে করে না।
আগামী মাসে চীনের শেনঝেনে এপেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। চলতি বছর এটি হবে তার দ্বিতীয় চীন সফর। একই সময়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এটি হবে তার তৃতীয় সাক্ষাৎ।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের বৈঠকের জন্য কেউ অনুরোধ জানিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন। উত্তর কোরিয়া এর আগে জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে দেশটিকে রাজি করানোর উদ্দেশ্যে আলোচনায় বসতে তারা আগ্রহী নয়।
সূত্র: রয়টার্স
মূল প্রতিবেদনে যান ↗