আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশভাগের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গ গঠনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলার সমকালীন জীবনযাত্রা, সবকিছুকে এক ছাদের তলায় তুলে ধরেছে কলকাতার এক বিশেষ প্রদর্শনী।
ঐতিহাসিক নথিপত্র, পুরনো সংবাদপত্র, চিঠি ও দুর্লভ ছবির পাশাপাশি রয়েছে বর্তমান বাংলার বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রার আলোকচিত্র। ‘ধানসিঁড়ি টু অঞ্জনা: ক্রনিকল’নামের এই পাঁচ দিনের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১০ অক্টোবর। চলবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
গবেষক রূপেশ সরকারের উদ্যোগে কলকাতার নন্দন চত্বরে গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনীশালায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকছে প্রদর্শনীটি।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডঃ সুব্রত গুপ্ত এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত ডঃ দেবদত্ত চক্রবর্তী প্রদর্শনীর গবেষণা, ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ এবং উপস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।
হরিয়ানার রাজ্যপাল অধ্যাপক অসীম কুমার ঘোষও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। প্রদর্শনীর প্রথম অংশে তুলে ধরা হয়েছে ১৯৪৬-৪৭ সালের উত্তাল সময়ের ইতিহাস।
আধুনিক বাংলার ইতিহাসে এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দেশভাগের বিতর্ক এবং পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের দাবির মধ্য দিয়েই রাজ্যের জন্মের পথ তৈরি হয়েছিল।
এই অংশে রয়েছে বাংলার দেশভাগকে ঘিরে রাজনৈতিক ঘটনাবলি, হিন্দু বাঙালিদের জন্য পৃথক রাজ্যের দাবির প্রেক্ষাপট এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও হিন্দু মহাসভার ভূমিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি ও বিবরণ।
এছাড়াও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে তারকেশ্বর সম্মেলন, সেই সময়ের সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অবিভক্ত বাংলার আইনসভার কার্যবিবরণীর নির্বাচিত অংশ। দেশভাগের সময় জনমত গঠন এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা বোঝাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সমকালীন সংবাদপত্রগুলিকে।
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলার আইনসভায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটাভুটির বিবরণ। বাংলার দেশভাগের প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ পশ্চিমবঙ্গের গঠনের ক্ষেত্রে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
পুরনো সংবাদপত্র, চিঠি, সরকারি নথি এবং আইনসভার রেকর্ডের মাধ্যমে দর্শকরা সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
প্রদর্শনীর নামকরণ প্রসঙ্গে আয়োজক রূপেশ সরকার জানিয়েছেন, ধানসিঁড়ি ও অঞ্জনা, এই দুই নদীর নাম থেকেই প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয়েছে। প্রদর্শনীর দ্বিতীয় অংশের নাম ‘রূপসী বাংলা’।
এখানে ইতিহাসের নথিপত্র থেকে নজর ঘুরে যায় বর্তমান বাংলার দিকে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তোলা ৩০টি ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলার বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি, সংস্কৃতি ও জনজীবন।
পাহাড়, শহর, নদী, জঙ্গল থেকে শুরু করে উৎসব, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে এই ছবিগুলিতে। বাংলার ঐতিহ্য, সামাজিক পরিবর্তন এবং বর্তমান জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরাই এই ছবির মূল উদ্দেশ্য।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=43ndm4yXsNrwpJaQ
একদিকে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ইতিহাস, অন্যদিকে আজকের বাংলার মানুষ ও সংস্কৃতির ছবি—এই দুইয়ের মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে রাজ্যের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করেছে এই প্রদর্শনী।
