রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প x.cpm
Published on
:
2 min read
রাশিয়ার উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পথ থেকে আপাতত সরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ (Kirill Dmitriev)। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞার বদলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আলোচনার পথ খোলা থাকলে আমেরিকা ও রাশিয়া—দুই দেশেরই লাভ হতে পারে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে বলে দাবি তাঁর।
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, হোয়াইট হাউসের তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়া-সংক্রান্ত নতুন আইনের আওতায় থাকা একাধিক নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং শুল্ক আপাতত কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবার ওই নির্দেশে স্বাক্ষর করে তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পক্ষে প্রয়োজনীয়।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন দিমিত্রিয়েভ। রাশিয়ার বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক এই বিশেষ দূতের বক্তব্য, নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠত। তার প্রভাব পড়ত বিশ্ব অর্থনীতিতেও। তিনি লেখেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রাহাম অ্যাক্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
কোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া আটকালেন ট্রাম্প?
রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে আমেরিকায় ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ আইনটি আনা হয়েছিল। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের পাল্টা জবাব দেওয়াই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। এই আইন অনুযায়ী, রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপরে, মস্কোকে সাহায্য করার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর অনুমতি ছিল। সেই কারণে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপরও সম্ভাব্য আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে আপাতত এই আইনের আওতায় থাকা একাধিক পদক্ষেপ কার্যকর করা হচ্ছে না।
তবে এর অর্থ রাশিয়ার উপর আমেরিকার সমস্ত পুরোনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নয়। নতুন আইনের আওতায় থাকা নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলিই আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পিছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারের পরিস্থিতির হাত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রুশ তেল ও গ্যাসের ক্রেতা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপালে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সে দিকে নজর রেখেই সম্ভবত এমন সিদ্ধান্ত বলে দাবি।
অন্য দিকে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করায় রাশিয়ার উপর চাপ কমতে পারে এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করার পশ্চিমী প্রচেষ্টা দুর্বল হতে পারে।
