কলকাতা হাইকোর্ট। Ei Samay
Published on
:
2 min read
এই সময়: তাদের পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে বনগাঁয় পুজোর সময়ে সিপিএমকে বুকস্টল তৈরির অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্টল তৈরির সময়ে এবং পরে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনেরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার এই অনুমতি দিতে গিয়ে রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতির মন্তব্য, আইন সবার জন্যে সমান, এক–এক জনের জন্যে এক–এক নিয়ম হতে পারে না। বনগাঁর বুকস্টল নিয়ে মামলায় নির্দেশ হলেও নৈহাটির মামলার শুনানি হয়নি এ দিন। পুজোর ছুটির অবকাশকালীন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছে বিচারপতি ভট্টাচার্যর বেঞ্চ। আবার বনগাঁ নিয়ে বিচারপতি ভট্টাচার্যর সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করতে চলেছে রাজ্য।
বনগাঁয় যে জমিতে বুকস্টল করতে চাওয়া হয়েছে, তার মালিকানা নিয়ে বুধবার বিচারপতি ভট্টাচার্য পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি ভট্টাচার্যর বেঞ্চের এই মামলা শোনার এক্তিয়ারই নেই, এই যুক্তিতে রাজ্য বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সিঙ্গল বেঞ্চের আগের দিনের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে। যদিও প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ফের বিচারপতি ভট্টাচার্যর এজলাসেই মামলা পাঠিয়ে দেন, কারণ নির্দিষ্ট ভাবে কোনও রায় দেয়নি সিঙ্গল বেঞ্চ। বিকেলে শুনানিতে সিঙ্গল বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, অন্যরা নিজেদের ইচ্ছামতো স্টল তৈরি করতে পারলে সিপিএমকে কেন আলাদা করে অনুমতি নিতে হবে? কাউকে অনুমতি দেওয়া হবে, আর কাউকে দেওয়া হবে না—এতে ভুল বার্তা যাবে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি।
রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, হাইওয়ের উপরে কোনও নির্মাণ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। জবাবে বিচারপতি বলেন, তা হলে হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ আদালতে এসে আপত্তি জানান। তাঁর প্রশ্ন, কেউ অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করার সময়ে পুলিশ বাধা দেবে, আবার প্রভাবশালী কোনও পক্ষ একই কাজ করলে পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করবে—এটা কী করে হতে পারে! রাজ্যকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন বিচারপতি।