Published on
:
1 min read
এই সময়, কান্দি: ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবাবেগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সুন্দর মেলবন্ধনে ৯১তম শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতে উঠেছে কান্দির ঐতিহ্যবাহী জেমো ইন্দ্রতলা দুর্গাপুজো সমিতি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা কান্দির বিধায়িকা শ্রীমতী গার্গী দাস ঘোষ। এ বছরের পুজোর মূল ভাবনায় স্থান পেয়েছে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, মা সতীর ৫১ পীঠের আশীর্বাদ এবং সর্বোপরি নারীশক্তির ক্ষমতায়ন। নারীরাও যে সমাজের অগ্রগতিতে পুরুষদের সমান অবদান রাখতে পারেন, সেই ইতিবাচক বার্তাটিই মণ্ডপ জুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র দেশের উন্নয়নের বার্তাও দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।
কান্দি ও সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলায় সুবিশাল প্রতিমা উপস্থাপনার জন্য এই পুজোর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃতও হয়েছে এই পুজো। ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে এ বারও দর্শনার্থীদের টানতে থাকছে বিশেষ চমক।
সমিতির সদস্য অমরেন্দ্রনাথ সিংহ পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, '১৫ বছর আগে কর্মসূত্রে বাইরে থাকার সময়ে পুজোয় বাড়ি ফেরার পথে বাসযাত্রীদের বলতে শুনেছিলাম-ঠাকুর তো দেখবই, কিন্তু জেমো ইন্দ্রতলার ঠাকুর দেখতে যেতেই হবে। বুঝেছিলাম, এই পুজোর গ্রহণযোগ্যতা শুধু কান্দিতে নয়, পুরো মহকুমা জুড়ে ছড়িয়ে।' নামকরণের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি জানান, একসময়ে তাঁদের পূর্বপুরুষ এখানে ইন্দ্রদেবের পুজো করতেন, তার থেকেই ইন্দ্রতলা।
কেবল উৎসবেই সীমাবদ্ধ না থেকে ক্লাবটি বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা সামাজিক কাজ করে থাকে। পুজো সমিতির সঙ্গে যুক্ত রামকৃষ্ণ সেন ও প্রণব হালদার জানান, প্রান্তিক মানুষের মধ্যে খাদ্য-বস্ত্র বিতরণ থেকে শুরু করে কোভিডের সময়ে অক্সিজেন ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার মতো মানবিক কাজ তাঁরা করেছেন। এ বারও দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যের নিয়ম মেনে আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু উৎসবের কয়েকটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিনই মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে চলেছে এই পুজো সমিতি।