বিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে সৃষ্ট ব্যাপক গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের রাজপথ। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ ও অহিংস প্রতিবাদ কর্মসূচি পরবর্তীতে রূপ নিয়েছে তীব্র সহিংসতা এবং ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অনভিপ্রেত ঘটনায়। সার্বিক এই অবনতিশীল পরিস্থিতি কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে দেশটির সর্বস্তরের জনগণের প্রতি শান্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তাদের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়েছে যে, স্থানীয় সময় গত রবিবার এলিসি প্রাসাদ থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সাধারণ বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত ‘ন্যায্য দাবিগুলোর’ সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাজের আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। যারা এই ধরনের ধ্বংসাত্মক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন যে এই ঘটনায় আমরা সবাই একধরনের তীব্র ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এ ধরনের লাগামহীন ও অন্ধ সহিংসতার পেছনে বিন্দুমাত্র কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না এবং এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে অবশ্যই কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সহিংসতার ঘটনায় ইতিমধ্যে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় দুই হাজার চারশো জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এছাড়াও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চলা ধারাবাহিক সংঘর্ষের ফলে গত এক মাসের ব্যবধানে পুরো ফ্রান্সে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
গত রবিবারও রাজধানী প্যারিস এবং লিয়ন শহরের বেশ কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতা ও আন্দোলনকারীদের সরাসরি সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা অব্যাহত ছিল। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, রবিবারেও প্যারিসের রাজপথে জমায়েত হওয়া শত শত মানুষের ওপর পুলিশ বাহিনী কর্তৃক কাঁদানে গ্যাস ও তীব্র শব্দসৃষ্টিকারী গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
