অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলার ফুটপাতে ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রি করে পরিচিতি পাওয়া মিজান এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত। অথচ কোনো বড় সংবাদমাধ্যমের প্রচার কিংবা নিজস্ব বিজ্ঞাপন ছাড়াই কীভাবে ফুটপাতের এই খাবার বিক্রেতা এত মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠলেন, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তালতলার ফুটপাতে রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মিজান। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদকারী দল সেখানে অভিযান চালায়। মাস দেড়েকের মধ্যে এটি ছিল তাঁর দোকানে দ্বিতীয় উচ্ছেদ অভিযান।
ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার অভিযোগে এর আগে মিজান কারাগারেও গিয়েছিলেন। কারামুক্তির পর ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে।
মিজানের জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের কনটেন্ট নির্মাতারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর দোকানের সামনে বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাতাকে ভিডিও ও লাইভ করতে দেখা যায়।
মিজানকে নিয়ে তৈরি ভিডিওগুলোতে বিপুলসংখ্যক দর্শক যুক্ত হওয়ায় নির্মাতাদের আগ্রহও বেড়েছে। কেউ ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া ধারণ করছেন, কেউ আবার মিজানের রান্না ও বক্তব্য নিয়ে ভিডিও করছেন।
ক্যামেরার অতিরিক্ত উপস্থিতি নিয়ে মিজান নিজেও বিভিন্ন সময় বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁর রাগ, ক্ষোভ কিংবা কড়া কথাবার্তাও অনেক ভিডিওতে উঠে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দর্শকদের কাছে এসব দৃশ্যও আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।
মিজানের দোকানের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ তাঁর খাবারের দাম। কনটেন্ট নির্মাতাদের ভিডিওর মাধ্যমে ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাতের বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ক্যাব ও টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে গরুর মাংসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগারগাঁও ও তালতলার মধ্যমানের রেস্তোরাঁয় এক বাটি গরুর মাংসের দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ভাতসহ খাবারের খরচ আরও বেশি।
এর বিপরীতে মিজানের দোকানে ১০০ টাকায় মাংস ও ভাত পাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। নির্মাণশ্রমিকসহ দিনমজুরদের অনেকে কম খরচে মাংস-ভাত খাওয়ার সুযোগ হিসেবে দোকানটিকে দেখেন।
ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে বরিশালের গ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন মিজান। বড় হয়েছেন তালতলা এলাকায়। তাঁর মা মানুষের বাসা ও পোশাক কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি ফুটপাতে রান্না করা খাবার বিক্রি করতেন।
মায়ের হাত ধরেই কাজের জগতে প্রবেশ করেন মিজান। বিভিন্ন সময়ে রিকশা চালানো, মৌসুমি ফল বিক্রি এবং রিকশার গ্যারেজ পরিচালনার মতো কাজ করেছেন। প্রায় দুই বছর আগে ফুটপাতে ভাত বিক্রি শুরু করেন তিনি। পরে ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি শুরু করলে ক্রেতাদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
গত ৯ আগস্ট অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মিজানকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান। এরপর ১৬ আগস্ট তাঁর দোকান উচ্ছেদ করে ডিএনসিসি।
২৩ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তির পর একদল মানুষ ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করেন। সেই দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
‘বিডিলাইভ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে মিজানের মুক্তির ভিডিও ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর থেকে খাবার বিক্রেতা মিজানের পরিচিতি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন ‘ভাইরাল মিজান’।
