ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। অনলাইনে হয়রানি, আর্থিক প্রতারণা, হ্যাকিং, ওটিপি জালিয়াতি এবং ভুয়া তথ্য বা ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর মতো অপরাধ দমনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানলাইন টাস্ক ও লোভনীয় আয়ের প্রলোভনে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব হারানোর ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব বাড়াতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া গত ১ অক্টোবর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে প্রায় চার হাজার ছয়শ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে একটি স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’, যা বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সাইবার অপরাধের মামলাগুলোর নিবিড় তদন্ত নিশ্চিত করবে। সিআইডি এবং ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পাশাপাশি মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের মাধ্যমে তিন শতাধিক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আধুনিক প্রযুক্তির ফরেনসিক তদন্তের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক বছরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে শতাধিক মামলা ও বহু অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাইবার বুলিং ও অনলাইনে আর্থিক প্রতারণা রোধে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার এবং ওটিপি বা গোপন পাসওয়ার্ড কারো সাথে শেয়ার না করার বিষয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: বাসস
