পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে প্রতিনিয়ত তাদের মাধ্যম ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে।
সীমান্ত দিয়ে অভিনব ও বৈচিত্র্যময় সব কৌশলে দেশে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে প্রতিনিয়ত তাদের মাধ্যম ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে।
বিজিবি এবং বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া মাদক কারবারিদের বরাতে ইয়াবা পাচারের প্রধান কৌশলগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জলপথ ও ভৌগোলিক সুবিধাকে ব্যবহার
- নাফ নদী ও সমুদ্রপথ: ইয়াবা পাচারের সবচেয়ে বড় রুট হলো কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত ও নাফ নদী। মিয়ানমার সীমান্ত থেকে মাছ ধরার ট্রলার, স্পিডবোট এবং কাঠের নৌকায় করে রাতের অন্ধকারে ইয়াবার বড় বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়।
- লবণাক্ত পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া: অনেক সময় কোস্ট গার্ড বা বিজিবির তাড়া খেয়ে চোরাকারবারিরা ইয়াবার বস্তা বা প্যাকেট বিশেষ কায়দায় ওয়াটারপ্রুফ (পানিনিরোধক) করে নাফ নদী বা সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দেয়। পরবর্তীতে জোয়ারের টানে বা পূর্বপরিকল্পিত সংকেত অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে থাকা সহযোগীরা তা সংগ্রহ করে।
২. মানবদেহ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ভেতরে লুকিয়ে
- পাকস্থলীতে বহন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বহনকারীরা ইয়াবার ছোট ছোট পোটলা কলার বা বিশেষ কোনো মাধ্যমে গিলে ফেলে পেটের ভেতর (পাকস্থলীতে) নিয়ে আসে। পরে এক্স-রে বা বিশেষ মেডিকেল প্রক্রিয়ায় তা বের করা হয়।
- নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্যের আড়াল: কাঁচামাল, শুঁটকি মাছ, ফলমূল (যেমন: তরমুজ, কাঁঠাল, ডাব), চাল বা লবণের বস্তার ভেতর বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে রাখা হয়। শুঁটকি বা পচনশীল পণ্যের তীব্র গন্ধের কারণে অনেক সময় তল্লাশিকারী কুকুরও ইয়াবার গন্ধ সহজে শনাক্ত করতে পারে না।
৩. যানবাহন ও আসবাবপত্রের বিশেষ চেম্বার
- পরিবহনের গোপন কুঠুরি: দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, এমনকি প্রাইভেটকার বা মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংক, সিটের নিচে, চাকার ভেতরে বা ইঞ্জিনের ভেতরের ফাঁকা অংশে বিশেষ চেম্বার তৈরি করে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
- আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স: কাঠ বা প্লাস্টিকের আসবাবপত্রের পাইপ এবং ফ্রিজ, টেলিভিশন বা স্পিকারের ভেতরের সার্কিট ফাঁকা করে ইয়াবা পাচার করা হয়।
৪. নারীদের ও শিশুদের ব্যবহার
- পারিবারিক ভ্রমণের আড়াল: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ এড়াতে অনেক সময় নারী, শিশু বা পুরো পরিবারকে পর্যটক হিসেবে সাজিয়ে ইয়াবা পাচার করা হয়। নারীদের পোশাক, ভ্যানিটি ব্যাগ, বা শিশুদের খেলনার ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে রাখা হয়।
৫. ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
- ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত পার করা: সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু দুর্গম সীমান্তে নজরদারি এড়াতে ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে এপারে ইয়াবার ছোট পার্সেল বা প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার মতো আধুনিক কৌশলও বিজিবির নজরে এসেছে।
বিজিবি জানায়, মাদক কারবারিদের এই আধুনিক ও নিত্যনতুন কৌশল রুখতে সীমান্তে ডগ স্কোয়াড, নাইট ভিশন ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজারসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
