সমাজের বেশির ভাগ কিশোর, যুবক ও মধ্য বয়সি পুরুষকে দেখা যায় বিভিন্ন রকমে চুল রাখতে। তবে পুরুষদের চুল রাখার বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম। এ বিষয়ে এবার মতামত দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।
এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো পুরুষের জন্য নারীদের মতো লম্বা চুল রাখা কি জায়েজ আছে?
জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, পুরুষের জন্য লম্বা চুল রাখা জায়েজ রয়েছে। এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে-
১. কানের লতি পর্যন্ত।
২. কাঁধ পর্যন্ত।
৩. কানের লতি ও কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত পুরুষরা লম্বা চুল রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, তবে পুরুষরা যদি এতো বড় চুল রাখেন, যা নারীদের মত হয় অর্থৎ পিঠ পর্যন্ত চলে যায়। তাহলে তা জায়েজ নই।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদের ওপর এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীদের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৮৮৫)
সুতরাং কোনো পুরুষের নারীদের মতো চুল রাখা বা নারীদের বেশভূষা অবলম্বন করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও গুনাহের কাজ। এ থেকে বেঁচে থাকা সব মুসলমানের কর্তব্য।
অবশ্য বাবরি চুল রাখতে কোনো সমস্যা নেই। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও বাবরি রাখতেন।
কাতাদা (রহ.) বলেন, আমি আনাস রা.-এর নিকট নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল ছিল মধ্যম ধরনের, একেবারে সোজাও নয় আবার বেশি কোঁকড়ানোও নয়। তা ছিল দুই কান ও দুই কাঁধের মাঝ পর্যন্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৩৮)