ম্যাচের শুরুতেই তাসকিন আহমেদের বলে জিম্বাবুয়েকে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই চাপ সামলে জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ে রাখেন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর আর ক্রেইগ আরভিন। তাদের লড়াইয়ে মনে হচ্ছিল রান ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। তবে শেষ দিকে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে থেমেছে তিনশর আগেই। তবে লড়াকু পুঁজি পেয়েছে তারা।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। বিশেষ করে পেসার তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ের কোনো জবাব খুঁজে পাচ্ছিলেন না জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। ৭ ওভারের মধ্যেই তিন উইকেট তুলে নেন তাসকিন। ধস নামান জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরান ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে। ওভারের শেষ বলে তাসকিনের দারুণ ডেলিভারি আঘাত হানে বেনেটের প্যাডে। বাংলাদেশের জোড়ালে আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। সেই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে রিভিউ নিয়েও সফল হতে পারেননি বেনেট। ফিরেন ৬ বল থেকে শূন্য রানে।
পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে ফেরান আরেক ওপেনার বেন কারেনকে। তিনিও এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন। ফেরেন ১১ বলে ৬ রান করে। পরের ওভারে এসে ফেরান তাফাদজওয়া সিগাকে। তাসকিনের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে টাইমিং মেলাতে পারেননি। বল জমা হয় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে। ১৫ বলে ১৬ রান করে ফেরেন তিনি।
শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং ধসে পড়া জিম্বাবুয়ের হাল ধরেন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর আর ক্রেইগ আরভিন। ধংস্তুপে দাঁড়িয়ে লড়াই করেন তারা। চতুর্থ উইকেটে দেড়শ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষায় রাখেন বাংলাদেশকে। ৬ জন বোলার ব্যবহার করেও উইকেট পাচ্ছিল না বাংলাদেশ।
অবশেষে সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন সাইফ হাসান। ইনিংসের ৩৭তম ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান টেইলরকে। হাফসেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত থামেন ১০১ বলে ৮১ রান করে।
নিজের পরের ওভারে এসে দ্বিতীয় শিকার ধরেন সাইফ। এবার ফেরান নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে আসা জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে। ফেরার ৫ বলে ৪ রান করতে পারেন তিনি।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর চাপে পড়ে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। সেই চাপ কাটাতে উইকেটে এসে আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করেন ওয়েসলি মাদাভেরা। তবে বেশি সময় তাকে উইকেটে থাকতে দেননি রিশাদ। ৪৩তম ওভারে ফেরান সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে। ফেরার আগে ১৫ বলে ১৭ রান করেন তিনি।
বাকিদের যাওয়া-আসার ভীরে একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন ক্রেইগ আরভিন। তবে নার্ভাস নাইন্টিতে তাকে আটকে দেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। ৪৪তম ওভারে উইকরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান তাকে। ফেরার আগে ১০৬ বলে ৯৩ রান করেন তিনি। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে আরও এক উইকেট তুলে নেন শরিফুল। এবার ফেরান ব্র্যাড ইভানসকে (৯ বলে ৫)।
এতে আড়াইশ পার করার শঙ্কায় পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে শেষদিকে দ্রুত রান তুলে স্কোরবোর্ড বড় করেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামুরি। নবম উইকেটে ২৬ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন তারা। ১৭ বলে ২১ রানে নিয়ামুরি আর ১৫ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন মাসাকাদজা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে : ৫০ ওভারে ২৭১/৮ (বেনেট ০, কারেন ৬, সিগা ১৬, টেইলর ৮১, আরভিন ৯৩, রাজা ৪, মাদাভেরা ১৭, ইভানস ৫, নিয়ামুরি ২১*, মাসাকাদজা ২১*; তাসকিন ১০-২-৪৪-৩, শরিফুল ১০-১-৪৭-২, মুস্তাফিজ ১০-২-৪৪-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০, রিশাদ ৯-০-৬৬-১, সৌম্য ২-০-১৫-০, সাইফ ৩-০-১৭-২)
