অভাবের তাড়নায় প্রায় এক মাস আগে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলাম (৩০)। তবে তাতেও ঘোচেনি তার অভাব। ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টায় উপজেলার মাত্রাই বাজার থেকে ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় ছামছুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার কিডনি বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে। তার বাড়ি উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের শাইলগুন গ্রামে।
ছামছুল জানান, চট্টগ্রামে কাজ করার সুবাদে মাসুম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে কিডনি ক্রেতার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয় তার। পরে তারা তার পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করে। প্রায় এক মাস আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাই হয়ে তাকে তারা ইরানে নিয়ে যায়। সেখানকার একটি হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে তার বাম পাশের কিডনি পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেশে এসেছেন। যা এক নারীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় ছামছুলের পকেটে ইরানের একটি চিকিৎসাপত্র ছিল। তার শরীরের বাম পাশে অস্ত্রোপচারের দাগ দেখা যায়। তবে ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় ছামছুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে জানা যায়, তিনি সম্প্রতি একটি কিডনি বিক্রি করেছেন। মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবৈধ বেচাকেনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ উপজেলায় কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত সক্রিয় দালালদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
