যারা অতীতে ঠাকুরগাঁওয়ের এমপি নির্বাচিত হয়ে জনগণকে শোষণ করেছে, দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি করেছে তাদের কিংবা তাদের পরিবারকে আর সুযোগ দেওয়া যায় না।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষ সদস্য, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, “মসজিদ যেভাবে পাহারা দিতে হয় না আমি নির্বাচিত হলে মন্দিরও পাহারা দিতে হবে না”।
তিনি বলেন, যারা হিন্দুদের সংখ্যালঘু আখ্যায়িত করেছে ব্যালেটের মাধ্যমে তাদেরকে বয়কট করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী এদেশে জাতিগত বিভাজনে বিশ্বাস করে না জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে সমাজের প্রতিটি মানুষের রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এক ও অভিন্ন। ইসলামী নেতৃত্বে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নাগরিকদের বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাধীন বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের কালীতলায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নিজেদের নাগরিক মর্যাদা ও অধিকার বুঝে নিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রতি আহ্বান জানান।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের বিজয় হবে, জনগণের মুক্তি আসবে। জনগণ আজ পরিবারতন্ত্রের শিকলে বন্দি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা অতীতে ঠাকুরগাঁওয়ের এমপি নির্বাচিত হয়ে জনগণকে শোষণ করেছে, দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি করেছে তাদের কিংবা তাদের পরিবারকে আর সুযোগ দেওয়া যায় না। এরা সুযোগ পেলেই দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি করে জনগণের সম্পদ নিজেদের মাঝে ভাগ বাটোয়ার করে নেবে।
সার সংকটের চিত্র তুলে ধরে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সার সংকটের একমাত্র কারণ হচ্ছে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমপিদের আত্মীয়-স্বজনকে। কোথাও কোথাও এমপির স্ত্রী, ছেলে, ভাই এবং পুত্রবূধে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দলীয়করণ ও দুর্নীতির কারণে দেশে সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষক সার পাচ্ছে না, কৃষি উৎপাদনে ধস নেমে আসতে শুরু করেছে। এই ভয়াবহতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র ৭ মাসের মাথায় দেশের প্রতিটি সেক্টরে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যেদিকে হাত দেবেন কেবল নাই আর নাই! গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, তেল নেই, সার নেই। কৃষকেরা সারের জন্য রাজপথে বিএনপির শাসনামলে জীবন দিতে হয়েছে। এখনো সারের জন্য কৃষকদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ে যদি সরকার দলীয় ব্যক্তি এমপি নির্বাচিত হয় তবে কৃষকেরা সার ও কীটনাশক পাবে না। সব দলীয়করণ আর আত্মীয়করণের মাধ্যমে পাচার হয়ে যাবে। তবে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ চলবে না প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি স্থানীয়দের আগামী ২৯ অক্টোবর দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় প্রধান আলোচক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ৬৮জন নির্বাচিত এমপি রয়েছেন। যাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর লোকজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ সুবিধা ও নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা লাভ করছেন। কাউকে বোরকা পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে কিংবা হিন্দুদের বাড়িঘর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী দখল দিয়েছে এমন কোনো সংবাদ কেউ শুনেছে কি-না প্রশ্ন করলে উপস্থিত শতশত হিন্দু ধর্মের নারী-পুরুষ একবাক্যে জবাব দেন ‘না’।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী নয় বরং যারা হিন্দুদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে তারাই হিন্দুদের সম্পদ দখল দিয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, হিন্দুদের ওপর জুলুম করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা কখনোই মূল্যায়ন করেনি বরং তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সংখ্যালঘু হিসেবে আখ্যায়িত করেছে! যা জাতির জন্য লজ্জার। জামায়াতে ইসলামী জাতিগত বিভাজন ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাতে বিশ্বাসী নয়। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে সমাজের প্রতিটি মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এক এবং অভিন্ন। দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভোট দিলেই নাগরিকের দায়িত্ব শেষ নয়। নিজের ভোট যাতে লুট হতে না পারে, কেউ যেন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টে দিতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানান।
মাওলানা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মিজানুর রহমানের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির কৃষি সেলের প্রধান ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক গোলাম মর্তুজা সেলিম। এসময় এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলা আহ্বায়ক খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
