শরীরে দানা বেঁধেছিল ‘টুইস্টেড ওভারিয়ান সিস্ট’। জটিল পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। কিন্তু চ্যালেঞ্জ ছিল অন্য জায়গায়। অস্ত্রপোচারের সময় দু’মাসের গর্ভবতী ছিলেন যুবতী। অস্ত্রোপচারের সময় মায়ের পাশাপাশি গর্ভস্থ সন্তানেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সিস্টের অপারেশন না করলেও বিপদ। অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক। সেই অস্ত্রোপচার সফল হয়। তারপর ৬ মাস পর সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন মহিলা। মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
শান্তিপুর সেস্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ছ’মাস আগে ওই মহিলা যখন দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন সেই সময় তাঁর জটিল ‘টুইস্টেড ওভারিয়ান সিস্ট’ ধরা পড়ে। এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কারণ, অস্ত্রোপচারের সময় মায়ের পাশাপাশি গর্ভস্থ সন্তানেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়েই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ পবিত্র ব্যাপারী। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সিস্টটি বাদ দেওয়ার পাশাপাশি গর্ভস্থ সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতেও সফল হন তিনি। এরপর থেকে চিকিৎসকদের নজরদারিতে ছিলেন ওই প্রসূতি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায় গর্ভাবস্থা। অবশেষে ন’মাসের মাথায় ওই মহিলা একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। প্রসব প্রক্রিয়াটিও সম্পন্ন করেন চিকিৎসক পবিত্র ব্যাপারী।
মা ও সদ্যোজাত দুজনেই সুস্থ থাকায় খুশি মহিলার পরিবারও। চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। জটিল অস্ত্রোপচার ও পরে সুস্থভাবে সন্তানের জন্ম শান্তিপুরের স্টেস্ট জেনারেল হাসপাতালের মুকুটে নতুন পালক জুড়ল বলে মনে করছেন জেলার চিকিৎসক মহল।
