ডেইলি সিলেট ডট কম :: প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন | ১২:৩০ অপরাহ্ন
| ০
ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে মামলার বাদী ও কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিনকে ফোন করে এ হুমকি দেওয়া হয়। অজ্ঞাত ওই হুমকিদাতা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শনিবারের (২৪ অক্টোবর) মধ্যে সমঝোতা না করলে তার ‘লাশ পড়ে থাকবে’।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হুমকিদাতার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। বর্তমানে অডিওটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং হত্যার হুমকির এই বিষয়টিও চলমান মামলার তদন্তের আওতায় এনে দোষীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি ফোন করে প্রথমে আফসার উদ্দিনকে সালাম দেন। এরপর তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘ভাই, মামলার বাদী যে হলেন, আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?’ আফসার বিষয়টি বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করলে অপর প্রান্ত থেকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল শুরু হয়।
হুমকিদাতা চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেন, ‘কালকের (শনিবার) দিন সময় দিলাম, তোর বাপের সাথে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।’ এ সময় বাদী নিজেকে প্রতিষ্ঠানের মালিক নন দাবি করলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘মালিক না তো বাদী হইছোস কেমনে?’ এরপরই কলটি কেটে দেওয়া হয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে বাদী আফসার উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। তবে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সাইফুল ও জুয়েল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের নাম ব্যবহার করে তাদের নেতৃত্বেই এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়েছিল, যার কারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটি দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক জমিটি ভাড়া নিলেও হামলাকারীরা দাবি করে যে, ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে’। চাঁদা দাবির পাশাপাশি তারা কয়েক লাখ টাকার পণ্য লুট করে এবং যাওয়ার সময় সিসিটিভি ক্যামেরাও খুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন
- ফেইসবুক
- টুইটার
- গুগল প্লাস
- ইমেইল
সংবাদটি শেয়ার করুন:
