আগামী ঈদুল ফিতরে শতভাগ উৎসব ভাতা, পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া ও বর্ধিত চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। পাশাপাশি ২০২৬ সালের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’। এ সময় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করারও দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, একই এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম এমপিওভুক্তির সময়কাল বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে, স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.৭ অনুচ্ছেদে ভিন্ন শর্ত থাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা একই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একই ব্যবস্থায় কাজ করলেও প্রতিষ্ঠানভেদে নীতিমালার পার্থক্যের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার পরও এ বৈষম্যের কারণে অনেক শিক্ষক ন্যায্য আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ডিগ্রির কারণে উচ্চতর গ্রেড পেতে বিলম্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলেন, বিএড ডিগ্রি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএড ডিগ্রি অর্জনের পরের সময়কে ভিত্তি করায় অনেক শিক্ষক আর্থিক সুবিধা পেতে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। ফলে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ ডিগ্রি শিক্ষকদের একাংশের কাছে আর্থিক বঞ্চনা ও হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাবেশিকফোর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীন, নির্বাহী মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আতিকুর রহমান তালুকদার, সহসভাপতি মো. শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মো. রবিউল ইসলাম ও মো. তোফায়েল সরকার।
এ ছাড়া ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর মো. সাইদুজ্জামান, মো. মাহমুদুল হাসান মোহাব্বত, মো. রাশেদ, মো. আল মামুন, মো. জসিম উদ্দিন, রিনা খাতুন ও মো. মাসুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
