আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার কনট প্লেসের কাছে সিজেপি-র ‘তিরঙ্গা মার্চ’-এর আগে সংগঠনের আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনা সংগঠনের নেতৃত্ব এবং তাদের জরুরি পরিকল্পনা পরীক্ষার মুখে। সিজেপি জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তাদের কাছে একটি বিকল্প কৌশল বা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রয়েছে।
সিজেপি বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘তিরঙ্গা মার্চ’-এর ডাক দিয়েছিল। পুলিশি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সন্ধ্যার মুখে অভিজিৎ দীপকে ঝান্ডেওয়ালানে নিজের বাড়ি থেকে বের হয়ে গন্তব্য অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন দীপকে-রা। এরপরই ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠাতাকে আচক করে দিল্লি পুলিশ।
এরপরই সিজেপি-র মিডিয়া টিমের সদস্য বিজয় এম সংবাদ মাধ্যমকে-কে বলেন, “দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে, তবে আমরা আমাদের বিকল্প পরিকল্পনা ঘোষণা করব।” তবে পরিকল্পনা কী, তা নিয়ে বিস্তারিত বলেননি তিনি।
এর আগে, ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচির সময়, মুম্বই থেকেদিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই সংগঠনের আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি পুলিশ আটক করেছিল।
আটকের আশঙ্কা আগে থেকেই থাকায়, আগের রাতেই দীপকে একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন। সেখানে তিনি সিজেপি-র সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা অজিনক্য শিন্ডেকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির পরবর্তী নেতা হিসেবে মনোনীত করেন।
আটকের ঘটনার পর সংগঠনটি সেই ভিডিওটি প্রকাশ করে এবং জানায় যে, এই তিন নেতা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত অজিনক্য শিন্ডে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। এরপর শিন্ডে সমর্থকদের আহ্বান জানান, তারা যেন যন্তর মন্তরের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখেন এবং পুলিশ যেখানেই তাদের বাধা দেবে, সেখানেই যেন প্রতিবাদ প্রদর্শন করেন।
পুলিশের দাবি, অভিজিৎ দীপকে- কে আটক করে তারা কেবল প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ করেছে। দীপকে ছাড়াও আইসা নেতরী নেহা বোরা-সহ বামপন্থী সংগঠনগুলোর বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
কনট প্লেসে নিরাপত্তা জোরদার
এদিকে, পূর্বনির্ধারিত ‘তিরঙ্গা মার্চ’-এর জন্য বিক্ষোভকারীরা যাতে সেন্ট্রাল পার্কে প্রবেশ করতে না পারেন, সেজন্য দিল্লি পুলিশ কনট প্লেসের ইনার সার্কেলে ব্যারিকেড বসিয়েছে এবং সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে রেখেছে। পার্কের ভেতরে ও চারপাশে দিল্লি পুলিশ, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স-এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
দীপকেকে আটক করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সিজেপি-র এই প্রস্তুতি ১০ অক্টোবরের সেই প্রতিবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তিন শীর্ষ নেতাকে আটক করার ফলে আন্দোলনটিকে বিকল্প নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল।
সংগঠনটি ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে। ১৩ই অক্টোবর, সিজেপি নেতারা মুক্তি পাওয়ার পর, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরের মতো সংরক্ষিত প্রতিবাদস্থলে প্রবেশের দায়ে দিল্লি পুলিশ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে।
পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এবং শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। ১৪ই অক্টোবর তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় এবং তিহার জেলে রাখা হয়। তাঁদের সঙ্গে আটক হওয়া সিজেপি নেতা অজিনক্য শিন্ডেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়।
