ছবির ক্যাপশন: .
>> মো. মাসুদ আলম সাগর, ব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক এলাকায় ট্রাক ও লরি রেখে দখলদারিত্ব বজায়ে বাধা পেয়ে হামলা চালিয়েছে প্রাইম মুভার চালকরা। এ সময় পার্কের গেট, টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। মারধর করা হয় পার্কে আসা দর্শনার্থী ও নিরাপত্তাকর্মীদের।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ৯টা থেকে উল্টো চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহি যানবাহন চলাচলের সড়ক অবরোধ করে প্রাইম মুভার চালকরা। রাত ১ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে আছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে দীর্ঘ যানজট লেগে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এমন তথ্য জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বন্দর বিভাগের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) কবির আহম্মদ।
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান মোঃ মাসুদ আলম সাগরকে জানান যে, ডিসি পার্কে কয়েকজন গাড়ি চালককে মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগ করছেন সড়ক অবরোধ করা শ্রমিকরা। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের বিচার না হলে তারা সড়ক ছাড়বেন না বলছেন। আমরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করছি।কাস্টমস মোড়ে বিক্ষুব্ধ এক শ্রমিক বলেন, বিএম ডিপোর একটি লরি ফৌজদারহাট দিয়ে যাচ্ছিলো। ওই সময় ডিসি পার্ক থেকে একটি প্রাইভেটকার বের হয়। লরি চালককে সিগন্যাল দিলেও সে শুনেনি। এরপর ওই গাড়ির চালককে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে পার্কের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আমাদের পাঁচজন চালক তাকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে গেলে তাদেরও বেঁধে রেখে ব্যাপক মারধর করেন ডিসি পার্কের নিরাপত্তাকর্মীরা। পর্যায়ক্রমে আরও শ্রমিকরা গেলে ৩০ জনের মতো শ্রমিককে তারা আটকে রেখেছেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের এক দফা এক দাবি, ডিসি পার্ক বন্ধ চাই, আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দুই পাশের ব্যক্তিগত ও অন্যান্য গণপরিবহন আটকে দেন তারা।কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, এক সময় মাদকের আখড়া ছিল চট্টগ্রাম ফৌজদারহাট এলাকার এই ডিসি পার্ক। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ১৯৪ একরের এই মাদকের আঁখড়া দখলমুক্ত করে চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক হিসেবে গড়ে তোললেও প্রাইম মুভার চালকরা তাদের গাড়ি রেখে স্টেশন বানিয়ে রাখে। গত মঙ্গলবার দিনগত রাত ৯টার দিকে ডিসি পার্কের সামনে ট্রাক ও লরি রাখাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের সঙ্গে চালক ও সহকারীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু লরি-ট্রাক চালক শ্রমিক হামলা চালিয়ে পার্কের গেট, টিকিট কাউন্টার এবং বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে। সেই সাথে নিরাপত্তাকর্মীদেরও মারধর করে। এরপর উল্টো রাত সাড়ে ৯টার দিকে শত শত ট্রাক, প্রাইম মুভার চালকরা সড়কে মিছিল সহকারে নেমে আসেন। এ সময় তারা সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় রাস্তার উভয় পাশের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। অনেক চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয় তারা।
এই এলাকায় চট্টগ্রাম জেলা প্রাইম মুভার ও টেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রাইম মুভার টেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ স¤পাদক মো. কায়েস চৌধুরী মুঠোফোনে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিস কে জানান যে রাত ১টা পর্যন্ত তাদের ২০ জন শ্রমিকের খোঁজ পাচ্ছেন না তারা। বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী সদস্যরা আছেন। তাদের সাথে তারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন। যারা শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত তাদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না তারা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত প্রশাসক (রাজস্ব) সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, রাত ১টায় আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরছি। যারা ডিসি পার্কে হামলা করেছে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
