আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার কতদিন চালিয়ে যাবেন সেটি অবশ্য নিশ্চিত নয়। ইতোমধ্যে বাঁ পায়ের জাদুতে বুঁদ রেখে তিনি ৯৩৬টি গোল করেছেন। চাইলেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মতো তিনিও ছুটতে পারেন হাজারতম গোলের দিকে। একে অবশ্য অসম্ভব মনে করেন না ইন্টার মায়ামির কোচ।
আজ (রোববার) ভোরে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামি বনাম আটালান্টা ইউনাইটেডের ম্যাচটি ছিল মেসিময়। যেখানে আর্জেন্টাইন মহাতারকার জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে মায়ামি ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে। চলমান এমএলএসে ২৫তম গোল নিয়ে তিনি সবার শীর্ষে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে আছেন। পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করেছেন ১৫টি। এর মধ্য দিয়ে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে লিগটির ইতিহাসে টানা তিন মৌসুমেই ন্যূনতম ১৫টি অ্যাসিস্ট করলেন মেসি।
পেশাদার ক্যারিয়ারে জাতীয় দল এবং ক্লাবের হয়ে সম্ভাব্য সবই জিতেছেন মেসি। তিনি এখন ঠিক কোন লক্ষ্যটা ছুঁতে চান তেমন কিছু স্পষ্ট করেননি। তবে ইন্টার মায়ামির কোচ ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেস যেন কিছুটা উসকে দিতে চাইলেন এলএমটেন–কে। মেসিও হাজার গোল করবেন বলে প্রত্যাশা তার। বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা এই মুহুূর্তে সুখী আছেন এবং এ অবস্থায় নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে খেলেন বলেও গঞ্জালেসের দাবি।
সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার ও মায়ামির বর্তমান এই কোচ বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সে ১ হাজার গোল করবে। এ ব্যাপারে আমার পুরোপুরি আস্থা আছে। আমি জানি সে অবশ্যই পারবে। কারণ সে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসে, সে নিজের জন্য নিজেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করে এবং যেহেতু এর মধ্যেই অন্য সবকিছু অর্জন করে ফেলেছে, এটিও ব্যতিক্রম হবে না।’
বয়স ৩৯ পেরিয়ে গেলেও মেসি নিজের উপভোগ্য সময় কাটাচ্ছেন এখন। জাতীয় দল ও ক্লাবের সবশেষ টানা ১৩ ম্যাচে গোলে তিনি অবদান রেখেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সে তাকে দেখে বরাবরই মুগ্ধ গঞ্জালেস, ‘অনুশীলনে তার প্রতিটি কাজই আমাকে মুগ্ধ করে। আমি সত্যিই আশা করি, যেদিন সে অবসরের সিদ্ধান্ত নেবে, সেদিন পর্যন্ত সে আমাদের বিস্মিত করে যাবে। আশা করি সেই সময়ের এখনও অনেক দিন বাকি আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকে বিস্মিত করতে তার কখনও ভুল হয় না। আমি সত্যি বিশ্বাস করতে পারি না যে তার মতো একজন মানুষ… ৩৯ বছর বয়সে… যা করছে, তা করেই চলেছে। যা আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়, তা হলো– তাকে সত্যিই সুখী দেখতে পাওয়া। যেহেতু সে সুখী, তাই সে তার সর্বস্ব দিয়ে দেয়। নিজেকে উপভোগ করে সে এবং এখানে নিজেকে একেবারে ঘরের মতো স্বচ্ছন্দ বোধ করে। আমি যেমনটা সবসময় বলি, সে আমাদের প্রতিদিন আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করে।’
এএইচএস
