নরসিংদীর মনোহরদীতে সতিনকে ফাঁসাতে নিজের আড়াই বছরের মেয়েকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হওয়া রহিমা ওরফে টুনি আদালতে সন্তান হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিশুর নাম তানজিমা আক্তার। সে ওই গ্রামের নাজমুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত রহিমা ওরফে টুনি (২৩) নাজমুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।
আজ রোববার বিকেলে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
জবানবন্দির বিষয়ে পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে রহিমা তাঁর স্বামী নাজমুল ও সতিন হনুফার সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এ সময় শিশু তানজিমা তার নানাবাড়ি চরমান্দালিয়ায় ছিল। ঘটনার আগের দিন গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রহিমার সঙ্গে সতিন হনুফার পারিবারিক কলহ হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রহিমা নানাবাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন।
জবানবন্দিতে রহিমা জানান, সতিন হনুফাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একটি পুকুরে তানজিমাকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।
পরে শিশুটির মরদেহ স্বামীর বসতঘরের একটি চৌকিতে কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন রাতে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তানজিমার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গতকাল শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগম (৭৫) বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান ও মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, রহিমাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি তানজিমাকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান বলেন, গত শুক্রবার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
