বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পরিত্যক্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
তিনি বলেন, এসব সম্পদে নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সম্পত্তি ও পাহাড়ি জমি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।
আহমেদ আযম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সরকারি স্থাপনা ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীন সম্পদগুলো কীভাবে রাষ্ট্রের কল্যাণে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। এসব সম্পদ বিক্রি করে মন্ত্রণালয় ও ট্রাস্টকে ক্রমেই শূন্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত ছিল।
ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রায় ১০ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এত বড় সম্পদ অব্যবহৃত পড়ে থাকলে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি আর হতে দেওয়া হবে না। জমিটিতে কী ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা যায় এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কীভাবে সৃষ্টি করা সম্ভব, তা যাচাই করতেই সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকায় ফিরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রের স্বার্থ, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং ১০ একর জমির সর্বোত্তম ব্যবহার—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পত্তিতে ভবিষ্যতে গঠনমূলক ও উৎপাদনশীল প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিত্যক্ত কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের পর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (ফিজিবিলিটি স্টাডি) মাধ্যমে কী ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, তা নির্ধারণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এসএম
