জনসংখ্যার পরিবর্তনের অজুহাত তুলে ভারতীয় মুসলিমদের ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. জাফরুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ‘দ্য মিলি গেজেট’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই অভিযোগ করেন।
ড. জাফরুল ইসলাম খান বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠন করা ‘জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি’র মাধ্যমে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে।
তার দাবি, এই উদ্যোগ মুসলিমদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে ভারতের যেকোনো স্থানে বসবাস ও চলাচলের অধিকার দিয়েছে। অথচ জনসংখ্যার পরিবর্তনের অজুহাত তুলে ভারতীয় মুসলিমদের ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, হিন্দুত্ববাদী চিন্তাভাবনার প্রভাবেই কথিত ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যু টেনে এনে বৈধ ভারতীয় মুসলিমদেরও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি আসামের এনআরসি প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন, যেখানে চিহ্নিত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই ছিলেন বাঙালি হিন্দু।
এ ছাড়া নিবন্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মুসলিমদের নাম বাদ দেয়া, সিএএ-এনআরসি বিতর্ক এবং উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন ৫০ কিলোমিটার এলাকার মসজিদ ও মাদরাসা সরানোর মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
জাফরুল ইসলাম খান জানান, এসব পদক্ষেপে ভারতীয় মুসলিমদের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা এর বিরুদ্ধে আইনি ও গণতান্ত্রিক উপায়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
