চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে চাপে পড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। বিরতির পর আর্লিং হালান্ডের গোলে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেনি ইংলিশ ক্লাবটি। বুধবার রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)।
পিএসজির হয়ে একটি করে গোল করেন দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে, ভিতিনিয়া ও মানিয়েস আকলিউশ। সিটির হয়ে দুটি গোলই করেন নরওয়ের স্ট্রাইকার হালান্ড।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধিমালা ভাঙার শতাধিক অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পর ঘরের মাঠে এটিই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। আপিলে সফল না হলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে ক্লাবটিকে। মাঠের বাইরের এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও গত রোববার লিভারপুলকে তাদের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল সিটি। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকাতেও শীর্ষে রয়েছে তারা। তবে ইউরোপীয় মঞ্চে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি এনজো মারেস্কার দল।
ম্যাচটি দেখতে ইতিহাদে উপস্থিত ছিলেন সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। গত মে মাসে ক্লাব ছাড়ার পর এই প্রথম পুরোনো ঠিকানায় ফেরেন স্প্যানিশ কোচ। গ্যালারিতে সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক ও প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানোর পেছনে বসে খেলা দেখেন তিনি। এদিকে গ্যালারিতে সমর্থকদের একটি বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি সিটিরই।
মাঠে অবশ্য শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় পিএসজি। কোচ লুইস এনরিকের খভিচা কাভারাতসখেলিয়াকে বেঞ্চে রেখে দেজিরে দুয়েকে শুরুর একাদশে খেলানোর সিদ্ধান্ত কাজে লাগে দারুণভাবে।
১৩তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন দুয়ে। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শট কাছের পোস্ট দিয়ে জালে ঢুকে যায়। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। দুয়ের সঙ্গে ওয়ান-টু পাসের সমন্বয়ে সিটির রক্ষণ ভেঙে দূরের পোস্টে হেডে গোল করেন দেম্বেলে।
প্রথম ১৫ মিনিটেই দুই গোল হজম করে দিশেহারা হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ৩১তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে এক মিনিট পরই তৃতীয় গোল পেয়ে যায় পিএসজি। ওয়ারেন জাইর-এমেরির ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে জাল কাঁপান ভিতিনিয়া। ৩২ মিনিটেই ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে সিটি।
বিরতির পর একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন সিটি কোচ। এতে স্বাগতিকদের খেলায় কিছুটা গতি আসে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আন্তোয়ান সেমেনিয়ো ও এনসো ফের্নান্দেস গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি।
৫৩তম মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রসে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান হালান্ড। এতে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে সিটির। কিন্তু ৬২তম মিনিটে আবারও গোল হজম করে তারা। বক্সের বাইরে থেকে আকলিউশের শট ঠেকাতে গিয়ে ব্যর্থ হন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। তাঁর হাতে লেগে বল উঁচুতে উঠে জালে ঢুকে যায়।
তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি সিটি। একপর্যায়ে গোললাইন থেকে দুর্দান্তভাবে বল বিপদমুক্ত করেন নুনো মেন্দেস। এরপর ফের্নান্দেসের শট পোস্ট ও ক্রসবারের সংযোগস্থলে লাগে। ক্রসবারে বল লাগিয়ে হতাশ হন হালান্ডও।
৭৫তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমান হালান্ড। আইয়ুব বুয়াদ্দির নিচু ক্রস থেকে বল জালে পাঠান তিনি। এতে শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। ৮৩তম মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও হালান্ডকে গোল করতে দেননি পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ।
শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় পিএসজি। তবে ফেরান তোরেসের শট ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা। বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসি ক্লাবটি।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা পিএসজির জন্য এই জয় গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ঘরোয়া ফুটবলে ভালো ছন্দে থাকা সিটির ইউরোপীয় অভিযানে এটি বড় ধাক্কা। আর্থিক বিধিমালা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে এই হার ক্লাবটির অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।
এমএস/
