ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এসি মিলানের জার্সিতে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার মঞ্চে দীর্ঘকাল ধরে চলা গোলখরা অবশেষে ঘুচেছে। অতীতে বহু প্রথিতযশা তারকা এই ক্লাবের হয়ে খেললেও যা অর্জন করতে পারেননি, মাত্র ১৯ বছর বয়সে সেই কীর্তি করে দেখিয়েছেন তরুণ ফরোয়ার্ড আলফাদজো সিসে। সিসে কেবল মিলানের দীর্ঘ অপেক্ষারই অবসান ঘটাননি, একই সঙ্গে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব প্রতিযোগিতাগুলোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ইতালিয়ান ফুটবলার হিসেবে এক ম্যাচে তিন গোল করার অনন্য রেকর্ডও নিজের নামের পাশে যুক্ত করেছেন।
ইউরোপা লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার ক্লাব রেড বুল সালজবুর্গকে তাদেরই ঘরের মাঠে চার গোল ব্যবধানে পরাজিত করেছে এসি মিলান। ম্যাচের শুরুর দিকে অসাধারণ দক্ষতায় পরপর গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সিসে। পরবর্তীতে দলের পক্ষে বাকি গোলটি আসে। ম্যাচের শেষভাগে লাল কার্ড দেখে দল দশ জনে পরিণত হলেও বড় ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইতালিয়ান জায়ান্টরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সতীর্থের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে গোল করে মিলানকে এগিয়ে দেন সিসে। এরপর চমৎকার পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বিরতির পর ক্রসে আবারও হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন তিনি। ঐতিহাসিক এই গোলটি করার মাধ্যমে ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় সর্বকনিষ্ঠ ইতালিয়ান হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন এই খেলোয়াড়।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সামগ্রিক সাফল্যকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন তরুণ তারকা সিসে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘মিলানের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া? সত্যি বলতে, সেটা আমার কাছে গৌণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জয় পাওয়া। আমরা জিতেছি, তাই খুশি।’ সিসের এই চোখ জুড়ানো পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মিলান কোচ রুবেন আমোরিমও। তার মতে, নিজের যোগ্যতার জোরেই মাঠে খেলার সুযোগ আদায় করে নিচ্ছেন এই তরুণ। তবে হ্যাটট্রিকের পরও শিষ্যের খেলায় আরও উন্নতির অনেক সুযোগ দেখছেন এই কোচ।
চলতি ফুটবল মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা সিসের এই পারফরম্যান্স তার ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইউরোপা লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে পরাজিত হয়ে হোঁচট খেয়েছিল মিলান। তবে সেই ধাক্কা সফলভাবে কাটিয়ে উঠে পরবর্তী ম্যাচেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেল সাতবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
