কুড়িগ্রামে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, ঘাতক ছেলে গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কুড়িগ্রাম সদরে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক ছেলে শোভনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ৫ ঘণ্টার মধ্যে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে পাশের এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়ে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুত্তাকীন আলম শোভন মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে বগুড়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব সেন্টার) রাখা হয়। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে ফেরার পর আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে গত রাতে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজন শোভনকে নিতে বাড়িতে আসলে শোভন ঘরের ভেতরে ছুরি দিয়ে তার মাকে আঘাত করতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই পারুল বেগমের মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সরদার আলীকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় শোভন।
আরও পড়ুন
গুরুতর আহত সরদার আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ছুরিকাঘাতের পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে যায়। পরে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী আরাজী পলাশবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
গোলাম মওলা/অন্তরা/
আরও পড়ুন
পাঁচবিবিতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালককে হত্যা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর সাখাওয়াত হোসেন নামে এক চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পাথরঘাটা এলাকার একটি সেতুর পাশ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাখাওয়াত হোসেন উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের সূর্যাপুর চকপাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
আরও পড়ুন
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সাখাওয়াত। রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি, তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধ্যান পাননি। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে যায়।
পরে সকালে পাথরঘাটা সেতুর পাশে একটি চায়ের টংঘরের কাছে সাখাওয়াতের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম জানান, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলেছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাগর কুমার/অলি/
আরও পড়ুন
কুড়িগ্রামে ছেলের হাতে মায়ের মৃত্যু, গুরুতর আহত বাবা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী এলাকায় মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে পারুল বেগম নামে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী সরদার আলী। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মুত্তাকীন আলম শোভন পালিয়ে গেছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুত্তাকীন আলম শোভন মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে বগুড়ার একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে রাখা হয়। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে বাড়িতে ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় গত রাতে ওই পুনর্বাসনকেন্দ্রের লোকজন শোভনকে নিতে তাদের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি টের পেয়ে শোভন ঘরের ভেতরে ছুরি দিয়ে তার মাকে আঘাত করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই পারুল বেগমের মৃত্যু হয়। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সরদার আলীকেও ছুরিকাঘাত করেন শোভন। পরে তিনি পালিয়ে যান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত সরদার আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ছুরিকাঘাতের পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে।
নিহত পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জিএম সিরাজ/অলি/
আরও পড়ুন
সিলেটে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামকে আটকে রেখে মারধর করছেন স্থানীয়রা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
-->সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে (১৬) বলাৎকারের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামকে (৫৩) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মছলম উদ্দিন একাডেমি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার এনামুল ইসলাম কানাইঘাট উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মছলম উদ্দিন একাডেমির প্রধান শিক্ষক। সোমবার ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে আটকে রাখেন এবং মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে, গ্রেপ্তারের আগে স্থানীয় কয়েকজন ওই শিক্ষককে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষে মারধর করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, ওই ছাত্রকে গত ৭ অক্টোবর স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুমে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক এনামুল হককে লাঞ্ছিত করে এবং স্কুলের অফিস কক্ষে আটকে রাখে।
মামলার বাদী ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা দাবি করেন, তার ছেলেকে চার মাস ধরে বলাৎকার করে আসছিল শিক্ষক এনামুল হক। বিষয়টি জানার পর তিনি তার ছেলের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং থানায় মামলা করেন।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। পাশাপাশি আমার ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছবেদ আলী বলেন, ‘মছলম উদ্দিন একাডেমির প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামকে বলাৎকারের অভিযোগে স্থানীয়রা আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মামলা করেছেন। মঙ্গলবার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
সালমান/
আরও পড়ুন
সিংগাইরে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলায় স্ত্রী হাসনা আক্তারকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের আগে ওই গ্রামের এক নারীর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
নিহত রাশেদুল ইসলাম (৩৮) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার এসকেএইচ গার্মেন্টসে স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। তার স্ত্রী হাসনাও একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন রাশেদুল। জমি স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বিরোধ মেটেনি। এ নিয়ে গত ৩ অক্টোবর তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছেলে তাওহিদকে নিয়ে নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন রাশেদুল। তার স্ত্রী মেয়ে রুমাইয়াকে নিয়ে পাশের কক্ষে ছিলেন। পরদিন ভোর পৌনে ৪টার দিকে বাবার চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় তাওহিদের। এ সময় সে বাবাকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা রাশেদুলকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বাড়ির সামনের সড়কেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর হাসনা পালিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মামা মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসনা আক্তারকে আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে হাসনা পলাতক ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, হাসনা আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হবে।
আসাদ জামান/অলি/
