মাদ্রাসা শিক্ষকের দোষ স্বীকারের সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। শুরু হয় চপেটাঘাত ও লাথি। নিজের শিশু সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে অভিভাবকের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয়রাও।
ঘটনার ২ দিন পর গণমাধ্যমের বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ভুক্তভোগীর বাবা। বর্ণনা করেন সেদিনের প্রেক্ষাপট।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা শাহজালাল রুমি জানান, আমি প্রিন্সিপালের কক্ষের বাইরে প্রায় ১৫ মিনিট বসে ছিলাম। এরপর ওই শিক্ষক এলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, ‘ভাই, আপনি আসলে কী করেছেন, আমাকে একবার বলেন।’ তিনি যখন বলেন যে, তিনি জোরাজুরি করেছেন এবং আমার মেয়েকে চুমু দিয়েছেন, তখন ওই মুহূর্তে একজন অভিভাবক হিসেবে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। এরপরের ঘটনা তো আপনারা দেখেছেন।
জানান, সত্য ঘটনা আড়াল করতেই তাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে টাকা লুট কিংবা ভাঙচুরের ঘটনা মিথ্যা বলেও দাবি তার।
অর্থ লুটের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১৭ লাখ টাকা কি আমি পকেটে করে নিয়ে গেছি? সিসিটিভি ফুটেজ আছে, দেখাক। আমি যদি সতেরো লাখ টাকা নিয়ে গিয়ে থাকি, তাহলে তা সিসিটিভি ফুটেজে দেখাক। তিনি এখনও সেখানে বসে আছেন। সেখানে গিয়ে আমি ভাঙচুর করেছি। সেখানে একটি গ্লাস ছিল, যেটির পুরুত্ব সম্ভবত তিন মিলিমিটার। আমি ওই গ্লাসটিতে হাত রেখেছিলাম, আর তাতেই গ্লাসটি ভেঙে যায়।’
এদিকে মারধরের ঘটনার ২ দিন আগে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনা আড়াল করতে তার বাসায় যান বলে দাবি করেন রুমি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তার কথাও উল্লেখ করেন।
শাহজালাল রুমি আরও বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে সে বাচ্চার মাকে মেসেজ দিয়ে জানায়, ‘আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমি আপনার বাসার সামনে আছি।’ এরপর সে রাস্তায় বাচ্চার নানার সঙ্গে দেখা করে তাকে বলে, ‘আমি এ ধরনের কাজ আর কখনও করব না।’
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ৬ বছরের শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবিও জানান হতভাগ্য এই পিতা।
