বান্দরবানের লামা উপজেলায় সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে তিন কিশোরী। ১০ অক্টোবর সংঘটিত এই ঘটনায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পুরো এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো—লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকার আবুল হাশেমের মেয়ে ও ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও ঘর ছাড়ে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরও তারা ফিরে না আসায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে আত্মাত্মীয়দের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তাদের সন্ধান না পেয়ে ১৩ অক্টোবর লামা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
তবে কিশোরীদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পেছনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিখোঁজ কিশোরীদের কেউই সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য তার প্রতিষ্ঠানে যায়নি। অন্যদিকে ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানিয়েছেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যে কিশোরীদের ঘর ছাড়ার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এটি কোনো প্ররোচনা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিখোঁজ তিন কিশোরীর কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাওয়ার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেখানে তারা ঠিক কার বা কাদের আশ্রয়ে কিংবা কোথায় অবস্থান করছে, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের অবস্থান শনাক্ত এবং নিরাপদে উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সন্তানদের এমন আকস্মিক নিখোঁজে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপে নিখোঁজ তিন কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা।
