Published on
:
2 min read
মঙ্গলবার দিল্লিতে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের আটক করে বেধড়ক মারধর এবং হেনস্থার অভিযোগ তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এমনকী, কেরলের এক ছাত্রী তথা ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার (NSUI) কর্মী অথিরা মারধরের কারণে শ্রবণশক্তি হারাতে বসেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বুধবার আহত ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন রাহুল। সেখানেই দিল্লি পুলিশের ভূমিকার কড়া নিন্দা জানান বিরোধী দলনেতা।
এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত কেরলের ছাত্রী অথিরা জানান, গত ১৩ অক্টোবর বিক্ষোভের সময়ে তাঁকে ও অন্য কয়েক জন মহিলা বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। অথিরার দাবি, তাঁদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কনট প্লেস থানার বাইরে বাস থামার পরে পুলিশকর্মীরা তাঁদের মারধর করেন।
অথিরার অভিযোগ, মহিলা পুলিশকর্মী কোথায়, তা জানতে চাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তাঁর দাবি, তাঁকে বারবার চড় মারা হয় এবং বুকে, পেটে ও পিঠে লাথি মারা হয়। মুখ ও কানের কাছেও আঘাত লাগে বলে অভিযোগ তাঁর। এর জেরেই একটি কানে শোনার ক্ষমতা হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
NSUI-এর আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের তিনটি বাসে তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করা হয়। প্রতিটি বাসে ৩০-৪০ জন করে লোক ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা একটি বাস থামানোর চেষ্টা করেন এবং বাসের নীচে বসে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন। সেই সময়ে এক পুলিশকর্মী তাঁর ঘাড় ধরে পেছনের দিকে ঠেলে একটি সিটে ফেলে দেন। তাঁর অভিযোগ, ‘তিনি তাঁর নখ দিয়ে আমার মুখে আঁচড় কাটেন, যার ফলে আমার মুখ ও কানের কাছে আঁচড়ের দাগ পড়ে যায়। আমি বাধা দিলে তিনি আমাকে সজোরে চড় মারেন এবং বলেন, ‘এই নে, গালে আরেকটা চড় খা।’
ছাত্রছাত্রীদের এ হেন হেনস্থার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি এই ছাত্রীছাত্রীদের বলেছি, সমস্ত ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ডিং রেখে দিতে। সেই সব প্রমাণ আমাদের কাছে পাঠাতে বলেছি। আমরা এগুলি কাজে লাগাব। আমরা নিশ্চিত করব– প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, জ্ঞানেশ কুমার, অমিত শাহ থেকে শুরু করে এমনকী যে কনস্টেবল আমাদের ছেলেমেয়েদের উপরে হাত তুলছেন— তাঁরা সবাই যেন শাস্তি পান।’
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যেরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাঁদের রয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাল্টা যুক্তি দিয়েছে পুলিশ।
