ম্যাচ শেষ হওয়ার বাঁশি বাজতেই ম্যানসিটি ভক্তদের চোখেমুখে এক অজানা আশঙ্কার ছাপ। আর্লিং হালান্ড খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে টানেলে ঢুকে গেলেন। এর আগে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে ম্যানসিটি ৩-২ ব্যবধানে ইপসউইচ টাউনকে হারিয়েছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত অন্য ম্যাচে চেলসি ২-০ গোলে এভারটনকে আর লিভারপুল ২-১ গোলে বোর্নমাউথকে হারিয়েছে।
এই জয়ে এনজো মারেস্কা এমন এক সাফল্যের দেখা পেয়েছেন, যা সিটির সবচেয়ে সফল কোচ পেপ গার্দিওলাও পাননি। ম্যানসিটি তাদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগে প্রথম সাতটি ম্যাচই জিতল, যে কৃতিত্বের ভাগীদার হলেন মারেস্কাও। চেলসি (২০০৫-০৬) ও লিভারপুলের (২০১৯-২০) পর প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের তৃতীয় ক্লাব হিসেবে মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচ জিতল সিটিজেনরা।
অবশ্য ৯০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি গোল খাওয়ার পর ইনজুরি টাইম ১২ মিনিট হওয়ার কারণে পয়েন্ট হারানোর আতঙ্ক ঠিকই কাজ করছিল ম্যানসিটির খেলোয়াড়দের মাঝে। শেষ পর্যন্ত এক গোলের লিড ধরে রেখে জয় পেয়ে যায় তারা।
১৯ মিনিটে ফিল ফোডেন ম্যানসিটিকে এগিয়ে দেন। ইতিহাদ স্টেডিয়ামের স্বাগতিক দর্শকদের নিস্তব্ধ করে দুই মিনিট পর সমতা ফেরান ডাইজেন মায়েদা। অবশ্য বিরতির আগেই হালান্ড ৩৪ মিনিটে লিড এনে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৬৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সব সংশয় দূর করে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে ম্যানসিটি গোল খেলেও হালান্ডের জোড়া গোলই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিল। সাত ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে ভালোভাবে অবস্থান নিল ম্যানসিটি।
এভারটনের মাঠে খেলতে গিয়ে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে চেলসি। লা ব্লুজদের হয়ে জোড়া গোল করেন পেদ্রো নেতো। এই জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে চেলসি।
চোট সারিয়ে মাঠে ফিরে লিভারপুলের জয়ের নায়ক হলেন আলেক্সান্দার ইসাক। পিছিয়ে পড়েও তার দল ২-১ গোলে হারাল ৯ জনের ব্রেন্টফোর্ডকে। প্রথমার্ধে কিন লুইস-পটারের গোলে ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছিল রেডরা। কিন্তু ব্রেন্টফোর্ডের ইয়েহর ইয়ারমলিউক হাফটাইমের আগে অপ্রয়োজনীয় লাল কার্ড দেখলে ম্যাচ ঘুরে যায়।
বিরতির পর ভিক্টর মুনোজ লিভারপুলকে সমতায় ফেরান। তারপর মৌসুমের পঞ্চম গোল করেন আইসাক। যোগ করা সময়ে ব্রেন্টফোর্ড দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে ভিতালি জানেল্টকে হারায়। ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ব্রেন্টফোর্ডকে পেছনে ফেলে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠল লিভারপুল।
