আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, কাজ দ্রুত ও সহজ করা। কিন্তু সেই সফটওয়্যারই ইংরেজিতে লেখা নামের হিন্দি রূপান্তর করতে গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটাল, যা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল উত্তরপ্রদেশে। ‘রামহিত যাদব’ নাম বদলে হয়ে গেল ‘রাম নে যাদব কো মারা’। বাংলায় যার অর্থ, ‘রাম যাদবকে মেরেছে’। শুধু তাই নয়, এক ভোটারের বাবার নামের জায়গায় লেখা হয়েছে ‘বি.কম’। উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ভোটার তালিকায় এমন একাধিক অদ্ভুত ভুল সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির ভোটার তালিকা ঘিরে। রাজ্যের ১১টি নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রায় ১৪.৮১ লক্ষ ভোটার-সংক্রান্ত নথির মধ্যে ১৫৮টি এ ধরনের অস্বাভাবিক এন্ট্রি চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া। বিষয়টি সামনে আসার পরই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ভোটার তালিকায় ভুল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
সমস্যার মূলে রয়েছে ইংরেজি থেকে হিন্দিতে নাম লেখার পদ্ধতি। অভিযোগ, নামের উচ্চারণ অনুযায়ী হিন্দি হরফে লেখার বদলে সফটওয়্যার কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দের অর্থ ধরে অনুবাদ করেছে। ফলে ব্যক্তির নামই পরিণত হয়েছে একটি বাক্যে। যেমন, ‘রামহিত যাদব’ নামটি ইংরেজিতে ‘রাম হিট যাদব’ হিসেবে লেখা হলে সফটওয়্যার ‘হিট’ শব্দটিকে আঘাত করার অর্থে ধরে নিচ্ছে। সেই অনুযায়ী হিন্দিতে নাম হয়ে যাচ্ছে ‘রাম নে যাদব কো মারা’। একইভাবে, অন্য একটি নামের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভুল সামনে এসেছে।
তবে সব ভুলের জন্য যদিও সফটওয়্যার দায়ী নয়। এক ভোটারের বাবার নামের জায়গায় ‘বি.কম’ লেখা হয়েছে। এটিকে দায়িত্বে অবহেলার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন দপ্তরের বক্তব্য, এই ধরনের ভুল সংশোধনের সুযোগ সফটওয়্যারে ছিল। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কীভাবে এমন ভুল রয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উত্তরপ্রদেশে এই প্রথম স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির ভোটার তালিকা তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করা, আবেদন যাচাই, অনুমোদন বা বাতিল, একই ব্যক্তির একাধিক এন্ট্রি শনাক্ত করা এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরি ইত্যাদি কাধিক কাজের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু ডিজিটাল ব্যবস্থার পরেও তালিকায় এমন ভুল থেকে যাওয়ায় তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। ঝাঁসির বিভাগীয় কমিশনার বিমল কুমার দুবে তদন্ত করে তালিকায় ভুল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভুলের কারণে যাতে কোনও যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে সমস্যায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
