মৌলভীবাজার২৪ ডেস্ক : মৌলভীবাজার জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন নামীদামি এবং স্থানীয় বিপণিবিতানগুলোতে ‘আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট’ ও ‘বিশেষ ছাড়ের’ নামে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে কেনাকাটা করতে গিয়ে ঠকছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে এই অনৈতিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড রুখতে ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকেরা দ্রুত প্রশাসনিক ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, মৌলভীবাজার শহরের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র—যেমন এম সাইফুর রহমান রোড, কুসুমবাগ, চৌমুহনা এলাকা ছাড়াও শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন শোরুম ও কাপড়ের দোকানে ঝুলছে “ ২০,৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত ছাড়”-এর নজরকাড়া ব্যানার ও ফেস্টুন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব ছাড়ের বেশির ভাগই ভুয়া এবং কৌশলে মূল্য বৃদ্ধির একটি মাধ্যম।
পণ্যের গায়ে থাকা আসল মূল্যের ট্যাগ সরিয়ে বা আগের দামের ওপর নতুন করে বাড়তি মূল্যের স্টিকার লাগিয়ে পরবর্তীতে তার ওপর ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে। এতে ছাড়ের পর যে দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তা মূল বাজারমূল্যের চেয়েও বেশি।
বাইরে ‘৫০% ছাড়’ লেখা থাকলেও ভেতরে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু অপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর এই ছাড় সীমিত রাখা হয়, যা সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে।
শহর এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, “ডিসকাউন্টের ব্যানার দেখে দোকানে ঢুকলে দেখা যায় যেসব ভালো পোশাক, সেগুলোতে কোনো ছাড় নেই। আর যেগুলোতে ছাড় দেওয়া আছে, সেগুলোর দাম আগেই কয়েক গুণ বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এটি সরাসরি ক্রেতা সাধারণের সাথে প্রতারণা।

তারা আরও বলেন, “নিয়মিত তদারকি না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছাড়ের নামে প্রকাশ্যে এই চাতুরি চালিয়ে যাচ্ছেন। অবিলম্বে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন যদি এসব দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করে, তবে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, সৎ ও নিয়মনীতি মেনে চলা ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা এবং সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন শোরুম ও মার্কেটগুলোতে যৌথ তদারকি অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।
