আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করতে এবার স্থানীয় আইটিআইগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে শিল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের যোগসূত্রের উপর গুরুত্ব দিলেন তিনি। নতুন কারখানায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১,৪০০ জনের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের কর্ণধার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় দক্ষ স্থানীয় কর্মীর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে স্থানীয় আইটিআইগুলি পরিদর্শনের নির্দেশ দেন শুভেন্দু। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যোগ্য কর্মীদের জন্য রাজ্যের দরজা খোলা থাকলেও স্থানীয় যুবকদের দক্ষ করে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
হলদিয়ায় নতুন রাসায়নিক কারখানার উদ্বোধনকে ঘিরে শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণকে সামনে আনল রাজ্য সরকার। বছরে ৩.৪৫ লক্ষ টন ফেনল এবং ২.১৫ লক্ষ টন অ্যাসিটোন উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারখানায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই উৎপাদন শুরু হলে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিকের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরতা কমবে। তিনি বলেন, “এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে আমরা আত্মনির্ভর হয়েছি। সমগ্র পশ্চিমবঙ্গকে আত্মনির্ভর করতে হবে। আমরা বড্ড ভাতানির্ভর হয়ে গিয়েছি। এই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
চতুর্থীর দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন মজুমদার, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর নবনীত নারায়ণও। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের তরফে জানানো হয়েছে, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
শুধু রাসায়নিক শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকছে না হলদিয়ার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৯৮ একর জমিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের নরম পানীয় উৎপাদনকারী সংস্থার কারখানা এবং ৫০ একর জমিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যার ট্রমা কেয়ার ও বার্ন ইউনিট তৈরির ঘোষণা করেছেন তিনি। ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ওই ইউনিট চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজ্যে একটি ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। হলদিয়ায় নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের শিল্পের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন নজর থাকবে সেদিকেই।
