আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভালোবাসার উষ্ণ আলিঙ্গন যে কখনও এমন বিপত্তির কারণ হতে পারে, তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি চিনের এক দম্পতি। স্বামীর সাধারণ এক জড়িয়ে ধরাতেই ভেঙে গেল স্ত্রীর পাঁচটি পাঁজর, ফাটল ধরল আরও একটি হাড়ে। অবিশ্বাস্য এবং বেদনাদায়ক এই ঘটনাটি ঘটেছে চিনে, যা প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত খুব সাধারণভাবেই। ওই তরুণী তাঁর স্বামী ওয়াংকে জানান যে তাঁর বেশ ঠান্ডা লাগছে। স্ত্রীর শরীরে একটু ওম দিতেই স্বামী স্বাভাবিকভাবে তাঁকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরেছিলেন। কিন্তু আলিঙ্গন করতেই হঠাৎ একটি হাড় ভাঙার মতো মটমট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে অসহ্য যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তরুণী, উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলেন। প্রথমে অবশ্য বিষয়টি সামান্য পেশির টান ভেবে ভুল করেছিলেন তিনি। সারা রাত প্রবল যন্ত্রণা সহ্য করে পরদিন সকালে দুজনে ছোটেন হাসপাতালে।
হাসপাতালে গিয়ে বুকের সিটি স্ক্যান করাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় চিকিৎসকদের। দেখা যায়, তরুণীর পাঁচটি পাঁজর পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে এবং ষষ্ঠ হাড়টিতে হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার হয়েছে। সৌভাগ্যবশত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন না হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ হিলিং প্যাচ দিয়ে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু স্বাভাবিক আলিঙ্গনে এভাবে পাঁজর ভেঙে যাওয়ার নেপথ্যে আসল কারণ কী? চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, তরুণী মারাত্মক অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগে ভুগছিলেন। এই রোগের কারণে তাঁর হাড় এতটাই পলকা হয়ে পড়েছিল যে দৈনন্দিন সামান্য চাপেই তা ভেঙে যায়।
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তরুণীর অনিয়মিত জীবনযাপনের বিষয়টিও সামনে আনেন তাঁর স্বামী। প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কেজি ওজনের ওই তরুণী মেদ ঝরাতে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ডায়েট মেনে চলতেন এবং প্রায়ই রাতের খাবার খেতেন না। সেই সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত কফি খাওয়ার অভ্যাস। তবে সবচেয়ে মারাত্মক ভুল ছিল রোদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব। রোদে ত্বক কালো হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি বাইরে বেরোতেনই না, আর কদাচিৎ বেরোলেও সারা শরীর ঢেকে বেরোতেন।
চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সূর্যের আলো শরীরে না পৌঁছালে ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারে না, যার অভাবে হাড় প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম শোষণ করতে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিন ধরে রোদের অভাব, অপুষ্টি এবং অতিরিক্ত কফির ক্ষতিকর প্রভাব হাড়কে তাসের ঘরের মতো ঠুনকো করে দিয়েছিল। বর্তমানে তরুণী বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর নিজের জীবনযাত্রায় বড়সড় বদল এনেছেন তিনি; এখন রোজ কিছুটা সময় সূর্যের আলোয় কাটাচ্ছেন এবং খাবারে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে নজর দিচ্ছেন।
