সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট :
২১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ২৩

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার থেকে চন্দ্রার উদ্দেশে একটি লেগুনা থামান মামুন রেজা। তখন তিনি একাই ছিলেন। তিন থেকে চার মিনিট পর চালক আরও চারজন যাত্রী তোলেন। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চেতন হারান মামুন। তারপর কী ঘটেছিল, তা আর মনে করতে পারেন না তিনি।
২৫ থেকে ৩০ মিনিট পর চেতন ফিরলে নিজেকে একটি মাইক্রোবাসের ভেতরে আবিষ্কার করেন মামুন। তাঁর হাত-পা ও চোখ বাঁধা এবং গাড়িটি ছুটছে অজানা গন্তব্যে। তাঁর দাবি, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল ছিল। এরপর তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে প্রায় দুই ঘণ্টা চলে নির্যাতন।
মামুন রেজা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের আছাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুরের দি ইবনে সিনা ন্যাচারাল মেডিসিন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
আজ বুধবার হায়দারপুর গ্রামে গিয়ে মামুনের সঙ্গে কথা হয়। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে অফিসের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে সফিপুর বাজার থেকে লেগুনায় উঠেছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রা যে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় রূপ নেবে, তা কল্পনাও করেননি।
মামুন বলেন, ‘লেগুনায় ওঠার কিছুক্ষণ পর আরও চারজন ওঠেন। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমার আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরে দেখি, আমি মাইক্রোবাসের ভেতরে। আমার হাত-পা ও চোখ বাঁধা।’
মামুনের ভাষ্য, মাইক্রোবাসে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা চাইতে বলেন। তাঁদের নির্দেশে নিজের মোবাইল ফোন থেকে বাবা, চাচা, দুলাভাই ও বড় বোনকে ফোন করেন তিনি। প্রথমে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তাঁরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামুন আরও বলেন, ‘আমার হাঁটুতে ও গলায় আঘাত করেছে। মুখে থাপ্পড় মেরেছে। বুকে, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মেরেছে। এখনো খুব ব্যথা করছে।’
মামুনের অভিযোগ, তাঁকে একটি সাদা রঙের কালো কাচের মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে মির্জাপুরের একটি ফাঁকা রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়। যাওয়ার আগে দুর্বৃত্তরা হুমকি দিয়ে বলে, ‘তুই মায়ের কোলে ফিরে যা। তোর মতো অনেক মামুনকে আমরা মেরেছি।’
মামুন রেজার দাবি, তাঁর কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা, প্রায় ২৫ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন ও ইসলামী ব্যাংকের একটি কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিকাশ হিসাবের পিনও জেনে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামুনের বাবা আছাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে ফোন দিয়ে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চায়। তখন আমি বুঝতে পারিনি কী হয়েছে। কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর বুঝতে পারি, আমার ছেলে কোনো সমস্যায় পড়েছে।’
এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের থানা এলাকার বাইরে হওয়ায় সরাসরি তদন্ত করা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হবে এবং আইনি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’

