নড়াইলের লোহাগড়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ফেদি বাজার ঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারা এবং বারবার সময় বৃদ্ধির পরও কাজ অসম্পূর্ণ রাখায় যশোর ভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল’-এর চুক্তি বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে ৫ কোটি টাকা প্রাক্কলনে নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র প্রধান প্রতিবন্ধকতা নবগঙ্গা নদী। লোহাগড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। নদী পারাপারের সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মুমূর্ষু রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল ও লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ও জনভোগান্তি কমানোর জন্য ফেদি বাজার এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল’-কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে সেতুর কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা ছিল।
নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ঢিলেঢালাভাবে কাজ চালাতে থাকে। দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন মাস কাজের শেষ সময় নির্ধারন করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়। বাকি ৩০ শতাংশ বাকি থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে বর্তমানে সেতুর অসম্পূর্ণ কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ফেদি বাজারের মুদি দোকানদার দুলাল মোল্যা বলেন, “এখন মাত্র দুটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। বিকল্প বা ঘুরতি পথ ব্যবহার করতে গিয়ে স্থানীয়দের অতিরিক্ত সময় ও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা সেতুটি নির্মাণ চাই।”
ভুমুরদিয়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী আনিস সরদার বলেন, “দীর্ঘদিনের সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে তা সর্বসাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এমনটি প্রত্যাশা করছি।”
নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, “বারবার সময় দেওয়ার পরও চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আইসিএল-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “সেতুটির অসমাপ্ত ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করার জন্য ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।”
