সব নেশাই যে সর্বনাশা, তেমনটা নয়। এর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বহুবার। সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি নেশা থাকলে তা আখেরে মানুষকে উর্ধ্বগামী করে তোলে। সেই নেশাই যে একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে এত বড় স্বীকৃতি এনে দেবে, তা কখনও ভাবেননি হুগলির সিঙ্গুরের নবম শ্রেণির ছাত্রী কিংবা তার পরিবার। অথচ বাস্তবে ঘটল সেটাই। ছোটবেলা থেকে ক্যামেরা হাতে ছবি তোলার নেশাই ফটোগ্রাফির ‘অস্কার’ এনে দিল সিঙ্গুরের কৃত্তিকা মুখোপাধ্যায়ের ঝুলিতে। সম্প্রতি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে আয়োজিত ৬২তম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় ১১–১৪ বছর বিভাগে কৃত্তিকা পেয়েছে ‘হাইলি কমেন্ডেড’ স্বীকৃতি। গত ১৩ অক্টোবর এই সম্মানের কথা ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এমন বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হয়ে কৃত্তিকার একটাই বার্তা, ভালো ছবি তুলতে গেলে মোটেই দূরদূরান্তে যেতে হয় না, ঘরের কাছেই এমন হাজার উপকরণ আছে।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজ়িয়াম আয়োজিত ৬২তম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় ১১–১৪ বছর বিভাগে কৃত্তিকা পেয়েছে ‘হাইলি কমেন্ডেড’ স্বীকৃতি। ১৩ অক্টোবর লন্ডনে আয়োজিত ওই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঘোষিত হয়েছে এই সম্মান। তার তোলা ছবির নাম ‘হোম কমফর্টস’। ১২১টি দেশ থেকে জমা পড়েছিল মোট ৬৫,৪০৩টি ছবি। তার মধ্যে মাত্র ১০০টি ছবি জায়গা পেয়েছে প্রতিযোগিতার গ্যালারি ও প্রদর্শনীতে। সেই বাছাইয়ের তালিকায় কৃত্তিকার ছবি থাকা নিঃসন্দেহে বড় কৃতিত্ব।
সিঙ্গুরের বাসিন্দা ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার কল্লোল মুখোপাধ্যায়ের দুই মেয়েকে নিয়ে এমন আশঙ্কা ছিল না। তবু তিনি দুই মেয়ে – স্বস্তিকা আর কৃত্তিকাকে ক্যামেরার নেশা ধরিয়েছিলেন। আর সেই নেশাতেই ম্যাজিক! না, দূর জঙ্গলে যেতে হয়নি। বাঘের ডেরায় ওঁত পাততে হয়নি। বাড়ির পাশের ছোট্ট বাগান থেকেই প্রকৃতির খুঁটিনাটি দেখতে শিখেছিল ছোট দুই মেয়ে। এভাবেই কৃত্তিকার চোখে ধরা পড়েছিল এমন এক মুহূর্ত, যা পৌঁছে গিয়েছে লন্ডনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে। ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফির দুনিয়ায় ‘অস্কার’ হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার। এমন বড় মাপের পুরস্কার পেয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল হুগলির সিঙ্গুর গোলাপমোহিনী মল্লিক হাইস্কুলের নবম শ্রেণির কৃত্তিকা।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজ়িয়াম আয়োজিত ৬২তম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় ১১–১৪ বছর বিভাগে কৃত্তিকা পেয়েছে ‘হাইলি কমেন্ডেড’ স্বীকৃতি। ১৩ অক্টোবর লন্ডনে আয়োজিত ওই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঘোষিত হয়েছে এই সম্মান। তার তোলা ছবির নাম ‘হোম কমফর্টস’। ১২১টি দেশ থেকে জমা পড়েছিল মোট ৬৫,৪০৩টি ছবি। তার মধ্যে মাত্র ১০০টি ছবি জায়গা পেয়েছে প্রতিযোগিতার গ্যালারি ও প্রদর্শনীতে। সেই বাছাইয়ের তালিকায় কৃত্তিকার ছবি থাকা নিঃসন্দেহে বড় কৃতিত্ব।
কৃত্তিকার কথায়, ‘‘এই সম্মান আমি উৎসর্গ করতে চাই দেশের স্কুলপড়ুয়াদের।’’ তার বার্তা, ‘‘অসাধারণ কিছু দেখতে দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, কখনও তা অপেক্ষা করে থাকে বাড়ির বাইরেই। দামি ক্যামেরা নয়, জরুরি হলো দেখার চোখ।’’
আন্তর্জাতিক স্তরে এমন স্বীকৃতি পাওয়া কৃত্তিকা সম্ভবত প্রথম বাঙালি আলোকচিত্রী। এখানেই শেষ নয়, এবছর তিনটি কনিষ্ঠ বয়স বিভাগ মিলিয়ে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একমাত্র ভারতীয় আলোকচিত্রীও সিঙ্গুরের কৃত্তিকা বলেই জানা গিয়েছে। ক্যামেরার সঙ্গে কৃত্তিকার বন্ধুত্বের শুরু মাত্র ন’বছর বয়সে, ক্লাস থ্রি–তে পড়ার সময়। দিদি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও পুরস্কারজয়ী ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার। সেই দিদি এবং বাবা কল্লোলের হাত ধরেই কৃত্তিকার ক্যামেরার প্রাথমিক পাঠ। তবে শুধু ক্যামেরায় ছবি তোলা শেখাই নয়, প্রকৃতিকে ধৈর্য ধরে দেখা, ছোটখাটো সৌন্দর্যের মধ্যে বিস্ময় খুঁজে নেওয়ার পাঠও সে পেয়েছে। বাড়ির বাগানের পাখি, পোকামাকড় আর সবুজের মধ্যেই তৈরি হয়েছে তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণের জগৎ। পরিবারের সঙ্গে হিমালয়ের বন-পাহাড়ে ভ্রমণ ও ট্রেকিংও তার চোখকে সমৃদ্ধ করেছে।
কৃত্তিকার কথায়, ‘‘এই সম্মান আমি উৎসর্গ করতে চাই দেশের স্কুলপড়ুয়াদের।’’ তার বার্তা, ‘‘অসাধারণ কিছু দেখতে দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, কখনও তা অপেক্ষা করে থাকে বাড়ির বাইরেই। দামি ক্যামেরা নয়, জরুরি হলো দেখার চোখ।’’ সিঙ্গুরের বাগান থেকে লন্ডনের মঞ্চে পৌঁছে কৃত্তিকা যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল, দেখার চোখ থাকলে ‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিসের উপরে একটি শিশির বিন্দু’ও কতটা অনন্য হতে পারে। তবে একই সঙ্গে সে মনে করাচ্ছে, প্রকৃতিকে চিনতে পারলেই হবে না, তাকে বাঁচানোর দায়ও সবার।
