Published on
:
2 min read
রাতের অন্ধকারে সমবায়ে খুলে সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটের চেষ্টার অভিযোগে ব্যাঙ্কের সম্পাদক কাজি তোসাদ্দেক হোসেনকে গ্রেপ্তার করল সিঙ্গুর থানার পুলিশ। তিনি এক সময়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। ধৃতের বিরুদ্ধে গোবিন্দপুর কৃষি উন্নয়ন সমবায়ের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সত্যজিৎ রায়কে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা নাগাদ সমবায় ব্যাঙ্কের তালা খুলে ভিতরে ঢোকেন তোসাদ্দেক। অত রাতে আলো জ্বলে উঠতেই সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। ব্যাঙ্কের সামনে জড়ো হন তাঁরা। শুরু হয় বিক্ষোভ। ‘চোর, চোর’ স্লোগান ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তোসাদ্দেককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, সমবায়ের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সত্যজিৎ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তোসাদ্দেক-সহ চার জনের নাম জড়িয়েছিল। মৃতের পরিবারের দাবি, গত ১৩ অক্টোবর সত্যজিৎকে সমবায়ে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। শুধু তাই নয়, আরও অভিযোগ, অবসরকালীন প্রাপ্য থেকেও বঞ্চিত করা হয় তাঁকে।
ওই দিনই হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের বলরামবাটি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে দেহ উদ্ধার হয় সত্যজিতের। পরিবারের অভিযোগ, মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৮ অক্টোবর তোসাদ্দেক-সহ মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আগামী সোমবার সমবায়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল পুলিশের।
তার আগেই শনিবার রাতে সমবায় ব্যাঙ্কে গিয়ে অভিযুক্ত তোসাদ্দেক সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য তোসাদ্দেকের দাবি, সিসিটিভি ক্যামেরা সারাতেই তিনি ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। অভিযুক্তের কথায়, ‘রাতের দিকে কিছু ঘটলে বলবে, তোমাদের সিসিটিভি ক্যামেরা খারাপ ছিল। তাই ওটা সারাতে গিয়েছিলাম।’ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন সিঙ্গুর বিধানসভা বিজেপি যুব মোর্চা আহ্বায়ক পীযূষ চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, ‘রাতের অন্ধকারেই কেন ওই কাজ করতে গেলেন? সারাদিন আর সময় পেলেন না?’