রাজধানীর মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানে বদলে যেতে শুরু করেছে এলাকার চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে হকার ও অস্থায়ী দোকানের দখলে থাকা ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ এখন পথচারীদের চলাচলের উপযোগী হয়েছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
একসময় মিরপুর-১০ গোলচত্বর, মিরপুর-১২, পল্লবীসহ আশপাশের এলাকায় ফুটপাতজুড়ে বসত অসংখ্য অস্থায়ী দোকান। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হকারদের হাঁকডাক, ক্রেতাদের ভিড় ও যানবাহনের চাপে সড়কে তৈরি হতো তীব্র যানজট। ফুটপাতে হাঁটার জায়গা না পেয়ে অনেক পথচারীকে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো।
সম্প্রতি ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযানের পর এসব এলাকার ফুটপাতের বিভিন্ন অংশে আগের মতো হকারদের ভিড় দেখা যাচ্ছে না।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন)-এর নির্দেশনায় মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে ফুটপাতের অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি সড়কের পাশে যত্রতত্র দোকান বসানো নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকান ও মানুষের জটলা কমে আসায় যান চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ঢাকা উত্তরের নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডিএনসিসি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওয়ার্ডভিত্তিক লার্ভিসাইড প্রয়োগ, মশকনিধন কার্যক্রম এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম তদারকিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার ড্রেন এবং খাল পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও সড়কবাতি ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করছে ডিএনসিসি।
মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা কঠিন ছিল। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হতো।
উচ্ছেদ অভিযানের পর ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দিয়ে আগের তুলনায় সহজে হাঁটা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা বলেন, ডিএনসিসি প্রশাসকের উদ্যোগে পথচারীদের চলাচলের পরিবেশ উন্নত হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, ঢাকা উত্তরকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিক সেবার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে উচ্ছেদ করা ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
তবে ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
