বিজয়া দশমীতে শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, সৌজন্যের নজির রইল ভিড়ে ঠাসা শহর কলকাতায়। বিসর্জনের যানজটের মাঝে বিজেপি সাংসদকে সাহায্যে এগিয়ে গেলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক। শুক্রবার বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যাচ্ছিলেন কলকাতার রামমোহন রায় রোড দিয়ে। যানজটে আটকে পড়ে তাঁর গাড়ি। এখানেই বাড়ি বিধায়ক কুণাল ঘোষের। তিনি অভিজিৎবাবুকে দেখামাত্র সাহায্য করতে এগিয়ে যান। ভিড় কিছুটা ফাঁকা করে সাংসদের গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার জায়গা করে দেন। একে অপরকে দেখে হাতজোড় করে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন। এই ছবি উৎসবের মরশুমে রাজনৈতিক সৌজন্য এক বড় উদাহরণ হয়ে রইল।
শুক্রবার রাতের দিকে শিয়ালদহ লাগোয়া রাজা রামমোহন রায় রোডে চলছিল বিসর্জনের শোভাযাত্রা। স্বভাবতই বেশ ভিড় হয়েছিল। এসময় সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যানজটে আটকে পড়ে তাঁর গাড়ি। তা দেখতে পেয়েই এগিয়ে যান বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অভিজিৎবাবুর গাড়ি বেরনোর ব্যবস্থা করেন। প্রতিমা নিয়ে যে শোভাযাত্রা চলছিল, সেই সদস্যদের অনুরোধ করেন, যাতে প্রতিমার গাড়িটি ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। বিধায়কের কথা শুনে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা রাস্তা ফাঁকা করে দেন। সেখান দিয়ে বেরিয়ে যায় সাংসদের গাড়ি। এসময়ে কুণাল ঘোষ ও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নিজেদের মধ্যে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দু’জনকেই হাসিমুখে একে অপরের সঙ্গে সামান্য বাক্যালাপ করতে।
বছর দুয়েক আগেও এই দু’জনের সম্পর্ক ছিল তিক্ত। তখন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি ছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তৎকালীন তৃণমূল সরকারের একের পর এক বেআইনি নিয়োগ নিয়ে কড়া রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। বিশেষত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যেভাবে তিনি ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যকে ভর্ৎসনা করেছিলেন, তাতে ‘মানুষের ভগবান’ তকমাও পান তৎকালীন জাস্টিস গাঙ্গুলি। আর সেসময়ের শাসকদলের অন্যতম সৈনিক হিসেবে তাঁর সমস্ত রায়কে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বিদ্ধ করেছিলেন কুণাল ঘোষ। সরাসরি না হলেও পরোক্ষে উভয়ের মধ্যে বিরোধিতা ছিল প্রকট।
তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৪ সালে বিচারপতির পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটে লড়ে তমলুকের সাংসদ হন। তার দু’বছর পর, ২০২৬ সালে বেলেঘাটার বিধায়ক হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের কুণাল ঘোষ। রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার। দু’জনই এখন জনপ্রতিনিধি। ফলে পারস্পরিক সৌজন্য স্বাভাবিক। আর সেই সৌজন্য থেকেই এদিন বর্ষীয়ান বিজেপি সাংসদকে সাহায্য করতে এগিয়ে গেলেন বিরোধী শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
