কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে এক দিনে অন্তত সাতটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে চারটি জাহাজে হামলার পর আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া মাইনের আঘাতে আরও তিনটি জাহাজ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জাহাজগুলোর জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের এই দাবিকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এক দিনে তেলবাহী জাহাজে হামলার এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, তেল পরিবহনের সময় চারটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনের আঘাতে অচল হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তবে এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নিয়ে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রণালীর অন্য অংশে জাহাজ চলাচলে সহায়তা বা নিরাপত্তা পাহারা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। প্রণালীটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও মুখোমুখি হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইরান হামলার ঘটনা ও মাইনের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ডের এক মুখপাত্রও ইরানের মাইন হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ থেকে মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রণালীটি উন্মুক্ত রয়েছে এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করছে।
তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ যেখানে জাহাজে হামলা ও মাইনের আঘাতের দাবি করছে, অন্য পক্ষ সেখানে মাইন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করছে। ফলে হরমুজ প্রণালীতে প্রকৃত পরিস্থিতি, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত চিত্র পেতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।
-20261023055653.jpg&w=1440&q=75)