যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করছে না। এমনকি খুব শিগগির বড় ধরনের কিছু একটা ঘটতে চলেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলিনায় একটি নির্বাচনি সমাবেশ শেষে হোয়াইট হাউজে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না, আমি মনে করি আমরা আলোচনা করছি না। যেকোনো একভাবে হোক, খুব শিগগির কিছু একটা হতে চলেছে।” তিনি আরো বলেন, “বেশিরভাগ মানুষ মনে করছে যে বিষয়টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে ঘটবে, তবে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং দেখব কী হয়।”
এর আগে সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এখনই ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ইতি টানতে পারে, কিন্তু ওয়াশিংটন এমন একটি স্থায়ী সমাধান চায় যা দীর্ঘস্থায়ী হবে। তিনি বলেন, “এটি খুব শিগগির শেষ হবে। আমরা চাইলে এখনই সরে দাঁড়াতে পারতাম, কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে চাই যেন এর ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী হয়।”
এ সময় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইরানকে পরাজিত করেছে এবং ইরান ‘কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না’।
এদিকে মার্কিন সামরিক ও অন্যান্য সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর নতুন করে যৌথ বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ট্রাম্প এই পরিকল্পনা অনুমোদন করবেন কিনা, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে; কারণ চলতি বছর তিনি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পরিকল্পনা বেশ কয়েকবার আটকে দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানিয়েছেন, প্রশাসন এমন কোনো সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না ‘যা থাকতেও পারে বা নাও থাকতে পারে’।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং বৈশ্বিক জ্বালানির সরবরাহের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসহ নানা ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় সেই সমঝোতা বর্তমানে স্থবির রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
