যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ডিজেল সরবরাহের চুক্তিকে ‘খুব ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেছেন, এ চুক্তি ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আনতে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মেলোনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের ফল কী হবে, তা অনিশ্চিত। কিন্তু ঝুঁকিগুলো স্পষ্ট।’ এ সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানায়, দুই দেশ ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর আওতায় প্রাথমিকভাবে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক বাজারে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে।
মেলোনির মতে, এ চুক্তি মস্কোকে একধরনের বৈধতা দেবে, যখন রুশ বোমা ইউক্রেনের শহরগুলোতে পড়ছে। পাশাপাশি এ থেকে রাশিয়ার নতুন আয় হবে, যা যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কাজে লাগতে পারে। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতাও দুর্বল হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানি করলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের পক্ষ থেকে আলোচনার উদ্যোগেও পরিবর্তন চান মেলোনি। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের একটি ‘গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী প্রতিনিধি’ নিয়োগ করা উচিত।
এ ক্ষেত্রে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে নিয়ে গঠিত ইথ্রি জোটকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি। মেলোনি বলেন, এই তিন দেশ যদি মনে করে যে একসঙ্গে আলোচনার চেয়ে আলাদাভাবে তারা ভালো করতে পারবে, তাহলে অন্তত সবার পক্ষ থেকে এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিয়ে তাদের তা করা উচিত।
সূত্র: রয়টার্স
