The Sangbad · সাধারণ
পরকীয়ার অপবাদে চুল কেটে মেখে দেওয়া হলো মরিচের গুঁড়া
২৪/১০/২০২৬

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ৪০ বছর বয়সী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীকে মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং সারা শরীরে শুকনো লাল মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মাকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন তার ছেলেও।ঘটনার বিবরণ জানিয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তবে ঘটনার চার দিন পরও অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, করাতি পাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহের জেরে আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে এই হামলা চালিয়েছেন। আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি তাদের সরাসরি সহায়তা করেন।ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার স্বামী কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। এ সময় পাশের নসায়নপুর গ্রামের আবদুর রশিদ তাদের বাড়িতে এসে হঠাৎ আনোয়ারের সঙ্গে পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ দেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এর কিছুক্ষণ পরই আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে একযোগে তার বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করেন। পাঁচজন মিলে চড়াও হয়ে প্রথমে তার চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দিয়ে সম্পূর্ণ শরীরে ঝাল মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ও মাখিয়ে নির্যাতন করা হয়।ওই নারীর আর্তচিৎকারে তার ছেলে ঘর থেকে বেরিয়ে মাকে রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীরা তাকেও বেধড়ক মারধর করে। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করলে পল্লিচিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ভুক্তভোগী নারী। রাতে স্বামী বাড়িতে ফিরলে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করা হয়।ভুক্তভোগী নারীর ছেলে বলেন, 'মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি কয়েকজন মিলে মাকে মাটিতে চেপে ধরে গায়ে মরিচের গুঁড়া মেখে দিচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। স্থানীয় আবদুর রশিদ সামনে থেকে থেকে এই বর্বর নির্যাতনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।'এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ওই পরিবারটি সংখ্যালঘু হওয়ায় অবহেলা করে এভাবে বাড়িতে উঠে প্রকাশ্যে বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল; কিন্তু এক নারীকে বাড়িতে ঢুকে চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া দেওয়া কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না।ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে, ছেলে এবং সহযোগী রশিদসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আসামিরা সবাই পলাতক। পুলিশি তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗