রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে শিরিন বেগম (৪২) নামের এক প্রবাসফেরত নারীর চার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী দুলালকে (৫০) ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেছে পুলিশ। নিহতের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার বিখাখালি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত সোহরাব আলী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিরিন বেগম দীর্ঘদিন জর্ডানে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে ছেলেকে বিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে তিনি দেশে ফেরেন এবং স্বামী দুলালের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর ওই ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। দেশে ফেরার পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও মনোমালিন্য চলছিল।
নিহতের ভাই যুবরাজ জানান, রোববার গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে দুলাল ঘরের আলো জ্বালিয়ে একটি ধারালো বটি দিয়ে শিরিন বেগমের গলায় কোপ দেন। পরবর্তীতে বটি দিয়ে কেটে মরদেহটি চার টুকরো করেন।
পাশের ফ্ল্যাটে থাকা বাড়ির মালিক হঠাৎ রাতে বাসার আলো জ্বলতে দেখে এবং ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি দরজায় নক করলে দুলাল দীর্ঘ সময় পর দরজা খোলেন। স্ত্রী কোথায় জানতে চাইলে দুলাল বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকেন এবং জানান তিনি বাথরুমে আছেন। কথা ও আচরণে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় এবং ভেতরের সন্দেহজনক পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে বাড়ির মালিক কৌশলে দুলালকে ভেতরে ধাক্কা দিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন।
তৎক্ষণাৎ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেয়া হলে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘর খুলে নারীর চার টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক স্বামী দুলালকে আটক করে।
স্বজনদের অভিযোগ, শিরিন বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ গুম করা এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল দুলালের।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
