বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, সার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের জনগণের কল্যাণে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য তিনি আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতের প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ে আলজেরিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের ফলে সরকারিভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তাঁর সরকার বিশেষভাবে আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের আমদানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
