আজকের পত্রিকা ডেস্ক

ইরান তার নীতি পরিবর্তন না করলে ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই ‘কাজটি শেষ করে ফেলতে পারে’ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, মার্কিন সরকারের সমর্থন না থাকলেও ইরানে ফের হামলা চালাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সাথে তিনি তেহরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোর স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় গতকাল রোববার নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘তারা (ইরান) যদি দ্রুত নিজেদের পথ না বদলায়, তবে আমরা খুব শিগগিরই কাজটি শেষ করব।’ তিনি দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েলিদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প তেহরানের দীর্ঘদিনের ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক, আমেরিকা ধ্বংস হোক’ স্লোগানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান যে তাদের হুমকি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে, তা কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না বললেও চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো হামলা চালাবে না এবং উভয় দেশের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নতুন করে শুরুর আশঙ্কার কথা জানান।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ১২০ আসনের নেসেটে জোট গঠনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়। এই নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে জিততে ট্রাম্প ‘পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক সমর্থন’ দিয়েছেন। ট্রাম্প তাঁকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ এবং ‘সাহসী ও মেধাবী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ ইসরায়েলের নেতৃত্বে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ দায়িত্বে ইরানের মুখোমুখি হতে হতো, যা তিনি করতে আগ্রহী নন। জবাবে নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, ‘একসঙ্গে আমরা মিশনটি সম্পন্ন করব!’
‘মার্কিন অনুমোদন ছাড়াই হামলা সম্ভব’
পৃথক এক বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, মার্কিন অনুমোদনের ওপর নির্ভর না করেই তারা ইরানে আগাম হামলা চালাতে প্রস্তুত। হালনাগাদ জাতীয় নিরাপত্তা নীতি উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ‘আমি যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি তা আমেরিকার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে না। প্রয়োজনে আমরা স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেব। আমরা আগেও তা করেছি, দরকার হলে আবারও করব।’
ইরানকে প্রতিরোধ করাকে নিজের ‘জীবনের মূল লক্ষ্য’ উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ইরান ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি। শত্রুকে প্রথম আঘাত হানার সুযোগ না দিয়ে ইসরায়েল নিজেই উদ্যোগ নেবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের কথা তুলে ধরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই শাসকগোষ্ঠীকে চিরতরে উৎখাত করতে হবে এবং দেশের সব নিরাপত্তা সংস্থাকে আমি সেই নির্দেশই দিয়েছি।’

