জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ উদ্যোগ। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়ার ধুনটে ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের গাছ লাগাতে দেখা গেছে। এখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়া এসব শিশুর খেলতে খেলতে বৃক্ষরোপণের দৃশ্য স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
যে বয়সে শিশুরা বর্ণমালা শেখার প্রাথমিক পর্যায়েও পৌঁছায়নি, সেই বয়সেই তাদের হাতে গাছের চারা। ছোট্ট হাতে মাটি খুঁড়ে চারা রোপণের এই দৃশ্য পরিবেশ রক্ষায় শৈশব থেকেই সচেতনতা তৈরির একটি সুন্দর উদাহরণ।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এত ছোট শিশুরা পরিবেশ রক্ষায় গাছের গুরুত্ব বুঝতে শিখল কীভাবে? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই মনে করছেন, এর পেছনে রয়েছে পরিবারের ভূমিকা। বাবা-মাকে গাছ লাগাতে দেখে শিশুরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। পরিবারের বড়দের আচরণ অনুসরণ করেই তারা পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলছে।
শিশুরা সাধারণত বড়দের দেখে শেখে। বাবা-মা যদি নিয়মিত গাছ লাগান, চারার যত্ন নেন এবং প্রকৃতি রক্ষার গুরুত্ব বোঝান, তাহলে শিশুরাও অল্প বয়সে এসব অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারে। ধুনটের শিশুদের বৃক্ষরোপণ তাই শুধু চারা লাগানোর দৃশ্য নয়, বরং পরিবার থেকে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি ইতিবাচক বার্তা।
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, উজাড় হওয়া বন পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে দেশে মোট ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচিকে এই বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ও জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদনেও কর্মসূচিটির উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফলতা শুধু কতটি চারা লাগানো হলো, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং রোপণ করা চারাগুলো কতটা বেঁচে থাকছে, নিয়মিত পরিচর্যা হচ্ছে কি না এবং স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী প্রজাতি নির্বাচন করা হয়েছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের দিয়ে গাছ লাগানোর উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পরিচর্যার মানসিকতা তৈরি করতে পারে। একটি শিশু যখন নিজের হাতে লাগানো চারাটির বেড়ে ওঠা দেখে, তখন গাছের প্রতি তার মমত্বও বাড়তে পারে।
এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা জরুরি। শিশুদের লাগানো গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি এক দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
বগুড়ার ধুনটের ছোট্ট শিশুদের এই উদ্যোগ তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা শুরু হতে পারে পরিবার থেকেই, আর সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার বীজ বপন করা যায় শৈশবেই।
The post ধুনটে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’, খেলতে খেলতেই পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা appeared first on ভোরের চেতনা.
