খেলাধুলা বিনোদনের মাধ্যম হলেও প্রিয় দল বা খেলোয়াড়কে ঘিরে অনেকের আবেগ কখনো সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে ফুটবলকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী খেলোয়াড়দের প্রতি ভালোবাসা, উন্মাদনা, এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটে।
প্রশ্ন হলো, মুসলিমের জন্য অমুসলিম দলকে সমর্থন ও তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের বিধান কী?
একইভাবে, মুসলিম দেশ বা মুসলিম খেলোয়াড়কে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনাই বা কী?
উত্তরে মোহাম্মদপুরের শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মুফতি ও মুহাদ্দিস মোহাম্মদ আমীর হোসাইন জানান, প্রথমত বিষয় হলো—এই সমস্ত খেলাধুলা সম্পূর্ণরূপে জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। জুয়া নাজায়েজ ও হারাম হওয়া সম্পর্কে কুরআনুল কারিমে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে।
আর জুয়ার মতো এমন নাজায়েজ ও হারাম কাজকে যারা সাপোর্ট করবে, যারা এই জুয়ায় অংশগ্রহণ করেছে, তাদেরকে মহব্বত করবে, তাদের পরাজয়ে দুঃখিত হবে, তাদের জয়ে উল্লসিত হবে, এটা কেমন যেন জুয়ার মতো হারাম কাজকেই বাস্তবায়ন করে খুশি হওয়ারই নামান্তর।
আর আল্লাহর হুকুমকে অমান্য করে নাজায়েজ ও হারাম কাজকে বাস্তবায়ন করে উল্লাসিত হওয়া ঈমান ভঙ্গের কারণ।
এমনিভাবে এই সমস্ত অমুসলিমের জন্য হৃদয়ে ভালোবাসা পোষণ করা, তাদের জন্য টাকা-পয়সা খরচ করে তাদের প্রতিকৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, তাদের পোশাকে নিজেকে সজ্জিত করা, তাদের মতো করে চুল কাটা ইত্যাদি, যেগুলো আমাদের সমাজে করা হয়ে থাকে, এগুলোও ঈমান ভঙ্গের কারণ।
আল্লাহ পাক রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন—
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَہُوۡدَ وَالنَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ مِّنۡکُمۡ فَاِنَّہٗ مِنۡہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ
হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। —আল-মায়িদাহ: ৫১।
এমনিভাবে রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
من تشبه بقوم فهو منهم
যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করল, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।
সুতরাং খেলার নামে আন্তর্জাতিক এই জুয়াকে যারা সমর্থন করবে, এটাকে নিয়ে যারা সন্তুষ্ট থাকবে, যারা এই জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও খেলোয়াড়দের সমর্থন করবে, তাদের সকলের জন্য এগুলো ঈমান ভঙ্গের কারণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এ ছাড়া আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক জুয়ার মতো এমন হারাম, নাজায়েজ ও গর্হিত কাজকে জনসাধারণ বর্তমানে কোনো গুনাহের কাজ মনে করছে না। আর গুনাহকে গুনাহ মনে না করাও ঈমান ভঙ্গের আরেকটি কারণ।
সুতরাং কোনো মুসলমানের জন্য খেলার নামে এইসব জুয়ায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের সমর্থন করা বা তাদের সমর্থক হওয়া জায়েজ নয়। তারা যত ভালো কাজই করুক না কেন, আল্লাহ তাআলার ওপর ঈমান না আনার কারণে তাদের সকল আমল বেকার হয়ে যাবে।
সূত্র: মুসলিম বাংলা