আজারবাইজানে অনুষ্ঠেয় ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এই আসরকে সামনে রেখে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল দলের পরিচিতি ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
একই সঙ্গে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে বাফুফে অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-২৭।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির প্রতিনিধিরা এবং অনূর্ধ্ব-১৫ দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ।
এই বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপ উৎসবে অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে বাফুফে।
সংস্থাটির প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরার পাশাপাশি এই উদ্যোগ দেশের ফুটবলে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির ধারাকে আরো শক্তিশালী করবে।
অনূর্ধ্ব-১৫ দল গঠন ও খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন বাফুফের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনজুরুল করিম।
তিনি জানান, আগের বছর বয়সভিত্তিক দল গঠনের পর বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়া খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে নতুন করে দল সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নির্দেশনায় কমলাপুর স্টেডিয়ামে ট্রায়ালের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকেও প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
করিম বলেন, গত বছর যে অনূর্ধ্ব-১৫ করেছি, যাদের বয়স ১৬ হয়েছে, তারা চলে গেছে ১৭-তে। আর যাদের বয়স ১৫-এর মধ্যে রয়েছে, তাদের নিয়ে এবার কাজ করেছি।
“সভাপতির নির্দেশনায় কমলাপুর স্টেডিয়ামে ট্রায়াল করেছি। সেখান থেকেও আমরা ভালো খেলোয়াড় পেয়েছি।”
দল নির্বাচনে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) ফুটবল বিভাগ থেকেও খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তার মতে, এই দল কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে না, বরং পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উদ্যোগের প্রশংসা করে তাবিথ আউয়াল বলেন, অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল আয়োজন তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। ফিফা এই আয়োজনকে নিয়মিত করতে চায়, যাতে সদস্য দেশগুলো ছোট বয়স থেকেই প্রতিভাবান ফুটবলারদের শনাক্ত করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারে।
তাবিথের ভাষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বয়সভিত্তিক ফুটবলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী হবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের শুরু থেকেই যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার সুযোগ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য মানসম্পন্ন ফুটবলার তৈরি করা সহজ হবে।
তিনি বলেন, এই ওয়ার্ল্ড কাপ ফেস্টিভ্যালটা ফিফা চাচ্ছে, প্রতি বছর একই সময়ে নিয়মিত হোক। তাহলে প্রতিটি ফেডারেশন অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইন আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেবে।
বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবলে দীর্ঘদিনের একটি আলোচিত সমস্যা হলো কার্যকর গোলস্কোরারের অভাব। বিশেষ করে নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার বা ‘নম্বর নাইন’ তৈরি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশের ফুটবল। এবার বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই সেই ঘাটতি পূরণের স্বপ্ন দেখছেন বাফুফে সভাপতি।
তাবিথ আউয়াল আশা প্রকাশ করেন, অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল থেকে পর্যাপ্ত গোল করে ফিরবে বাংলাদেশ। তার বিশ্বাস, এই বয়স থেকেই সঠিক প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য দক্ষ স্ট্রাইকার ও আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই সবাই বলছেন, বাংলাদেশের জাতীয় দলে নম্বর নাইন নেই, গোলস্কোরার নেই। আমি দেখতে চাই, অনূর্ধ্ব-১৫ বয়সভিত্তিক এই ফেস্টিভ্যাল থেকে আমরা যথেষ্ট গোল করে আসি। আপনারা বিশ্বাস রাখতে পারেন, আমাদের ভবিষ্যতের নম্বর নাইন ও নম্বর টেন তৈরি হতে যাচ্ছে।
আজারবাইজানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় খোঁজা ও বিকাশের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে চায় বাফুফে।
