ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় বিলাসপণ্যের দোকানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অনেক দোকানের কাচের সামনের অংশ ঢেকে দেয়া হয়েছে কাঠের পাটাতন দিয়ে। কোথাও নিয়োগ দেয়া হয়েছে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী। এর আগে গত সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের সময় দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ফলে কিছু দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য ফ্রান্স। দেশটিতে প্রতি বছর কেনাকাটা করতে যান বিপুলসংখ্যক বিদেশী পর্যটক। শ্যানেলের হ্যান্ডব্যাগ ও আর্মেসের স্কার্ফের মতো বিলাসপণ্যের বিশেষ চাহিদা রয়েছে তাদের কাছে। ফলে বিলাস ব্র্যান্ডগুলোর আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস পর্যটকদের কেনাকাটা। তবে বিশ্বজুড়ে এসব পণ্যের চাহিদা কমে আসার মধ্যে নতুন করে বিক্ষোভের পরিস্থিতি ব্যবসায় অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস, মার্সেই ও বোর্দো শহরে গত সপ্তাহে বিক্ষোভকারীরা শত শত দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার দোকান খোলা রাখা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড।
প্যারিসের প্লাস ভঁদোম এলাকার একটি রোলেক্স বিক্রয় কেন্দ্র ও ডি বিয়ার্সের দোকান গতকাল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শঁজেলিজে সড়কে অ্যাডিডাস ও বস ব্র্যান্ডের দোকানের সামনে নোটিস টাঙিয়ে বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়। সোয়াচ গ্রুপের কয়েকটি দোকানও নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত সপ্তাহে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লাকোস্তের একটি দোকান ধাতব খাঁচা দিয়ে পুরোপুরি ঘিরে রাখা হয়েছে। ব্র্যান্ডটির একটি ক্যাফেও ঢেকে দেয়া হয় কাঠের পাটাতন দিয়ে।
এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবায় ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে গতকাল প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় মিছিলের পরিকল্পনা করে বিভিন্ন সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের প্রধান ছাত্র ইউনিয়ন ইউএনইএফ এবং ২০১৮ সালে আলোচনায় আসা ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মীরা।
লুই ভিতোঁ, ডিওর ও বুলগারির মতো ব্র্যান্ডের দোকানগুলোরও নিরাপত্তা বাড়িয়েছে প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ। প্লাস ভঁদোম এলাকার দোকানগুলোয় এরই মধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পর্যটন কার্যক্রমে ধীরগতি এসেছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মানুষ এখন বিলাসপণ্যে খরচও কমিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এলভিএমএইচ, আর্মেস ও কেরিংয়ের গত প্রান্তিকের ফলও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। —খবর ও ছবি রয়টার্স
